শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home DM স্পেশাল ইভ্যালির আদ্যেপান্ত; ই-কমার্স না ছুপা এমএলএম, প্রতারণা না ব্যবসা? (পর্ব - ১)

ইভ্যালির আদ্যেপান্ত; ই-কমার্স না ছুপা এমএলএম, প্রতারণা না ব্যবসা? (পর্ব – ১)

ইভ্যালি নিয়ে চারদিকে হট্টগোল, আলোচনা, সমালোচনা, হতাশা ও দোষারোপ চলছে। ইভ্যালি আসলে কি, কেন, কিসের জন্য? গ্রাহক, সাধারন মানুষ, ব্যাংক, মিডিয়া, সচেতন নাগরিক, বুদ্ধিজীবি এমনকি সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা নিজের মতামত তুলে ধরছেন নানাভাবে। ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়াসহ বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সাথে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে, তবে এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইভ্যালির উপর একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ডিনেট’র সিইও মি. সিরাজুল হোসাইন ২২ জুন ২০২১ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেন, “ইভ্যালী যে ছুপা এমএলএম এটা বুঝতে এত গবেষনা করতে হচ্ছে? মটকা গাছ যত বড় হয়ে ভাংবে তত বেশি ঘর বাড়ি ভাংবে, সম্পদ বিনষ্ট হবে”।

এবার ধারণা নেয়া যাক ইভ্যালি কেমন কোম্পানী। আর দশটা ই-কমার্স এর মতোই বাজারে ব্যবসা করতে এসেছিল ইভ্যালি। ই-কমার্স এর কাজ অনলাইনে অর্ডার গ্রহণ করে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা দাম গ্রহণ পূর্বক গ্রাহকের নিকট পন্য পৌঁছে দেয়া।

হতে পারে আপনিও ইভ্যালির একজন গ্রাহক, হয়তো আপনিও ইভ্যালিতে কোন পণ্য অর্ডার করে তা পাওয়ার আশায় দিন বা মাস গুনছেন। ইভ্যালি সর্ম্পকে ধারণা পেতে গ্রাহকদের কথাই বেশি বলতে হবে যাকে বলে ইউজার বা কাস্টমার্স এক্সপেরিয়েন্স। তাহলে দেখে নেয়া যাক ইভ্যালির গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা কেমন। ইভ্যালি কি ধরনের কোম্পানি তা না হয় একটু পরেই আলোচনা করি।

পিয়াস মোহাম্মদ তার অর্ডার নাম্বার # EVL819637539 উল্লেখ করে লিখেছেন গত বছরের “ডিসেম্বর এর ২৬ তারিখের প্রোডাক্ট  এখনও পাই নাই ৬ মাসের বেশি হলো।“ ইভ্যালি কি উত্তর দিয়েছে তা স্ক্রীন শটে দেয়া  আছে। পণ্য দেয়া হয়নি। রিফান্ড প্রক্রিয়াধীন। সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে  পিয়াস মোহাম্মদের ইস্যুটি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুতই কাঙ্খিত মাধ্যমে রিফান্ড প্রদান করা হবে। ইভ্যালির উপর আস্থা রাখুন। আবার ঢাকার মধ্যে ২৪ ঘন্টায় ডেলিভারি পেতে  প্রায়োরিটি স্টোরে অর্ডার করার কথা বলা হয়েছে। ইভ্যালির পাশে থাকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। ক্রিস ভস, সাবেক এফবিআই ইনভেস্টিগেটর ও হোস্টেজ নেগোশিয়েটর বলেছেন, “মিথ্যা বললে বার বার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, আস্থা রাখতে বলা হয়।

তুষার রায় নামে ইভ্যালির একজন গ্রাহক আজ থেকে প্রায় ৪মাস আগে দুটি পণ্যের জন্য অর্ডার করেছিলেন, তখন তাকে বলা হয়েছিল ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য ডেলিভার করা হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার ক্রয়কৃত পন্যটি প্রসেসিং এ আছে এবং তার মধ্যে ৪০ দিন পার হয়ে গেছে, কোন প্রকার আপডেট ও তাকে জানানো হয়নি। এমতবস্থায় তিনি ইভ্যালি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে কমেন্ট করলে তাকে জানানো হয়- Tusar Roy স্যার, আপনার অনুসন্ধানের জন্য ধন্যবাদ। আপনার অর্ডারটি সময়সীমার ভিতর ডেলিভারি করা সম্ভব হয়নি জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আপনার এই ইনভয়েসগুলো (EVL712923425, EVL943916418) চেক করে দেখতে পারছি, আপনি ইতোমধ্যেই ডেলিভারি ইস্যু ক্যাটাগরিতে ইস্যু সাবমিট করেছেন। আশা করছি আমাদের সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট আপনার ইস্যুগুলো ভেরিফাই করে যত দ্রুত সম্ভব সমাধান এর চেষ্টা করবেন। ডেলিভারির ব্যাপারে পরবর্তি কোন ধরনের অফিসিয়াল আপডেট আসলে জানিয়ে দেওয়া হবে। আশা করছি আপনার অর্ডারের ডেলিভারি কার্যক্রম খুব দ্রুতই সম্পন্ন হয়ে যাবে।

এছাড়াও, আপনার এই EVL428250160 ইনভয়েসটি চেক করে দেখতে পারছি, আপনার দেয়া অর্ডারটির কাজ চলছে। অনেক গুলো অর্ডারের কাজ একসাথে সম্পন্ন করাতে অর্ডারগুলোর ডেলিভারি স্ট্যাটাস আপডেট করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি অর্ডারগুলোর যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করে ডেলিভারি সম্পন্ন করে দেওয়ার জন্য।

দেশ সেরা অনলাইন শপিং এক্সপেরিয়েন্স পেতে অর্ডার করুন প্রায়োরিটি শপে। ঢাকার ভিতরে ২৪ ঘন্টায় এবং ঢাকায় বাইরে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ডেলিভারি বুঝে নেওয়ার পাশাপাশি ই-পয়েন্ট সংগ্রহ করে প্রায়োরিটি সেবা নিন সবার আগে।

ইভ্যালির সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

অনিক আহমেদ নামে একজন গ্রাহক কমেন্ট করে জানতে চান, আমি ২৪ এপ্রিল অর্ডার করেছিলাম এবং ৫জুন সেলারে কাছে পাঠানো হয়েছে, কবে পাবো বলতে পারবেন? এবং তিনি সেই ইনভয়েসটিও উল্লেখ্য করে দেন- তার এই মন্তব্যে ইভ্যালি থেকে উত্তর দেয়া হয়-

Anik Ahmed স্যার, আপনার অনুসন্ধানের জন্য ধন্যবাদ।

আপনার এই EVL962592378 ইনভয়েসটি চেক করে দেখতে পারছি, আপনার দেয়া অর্ডারটি পিকড অবস্থায় রয়েছে। আমাদের সেলার যথাক্রমে সকল প্রোডাক্ট দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি করবেন। ডেলিভারির ব্যাপারে পরবর্তি কোন ধরনের অফিসিয়াল আপডেট আসলে জানিয়ে দেওয়া হবে। আশা করছি আপনার অর্ডারের ডেলিভারি কার্যক্রম খুব দ্রুতই সম্পন্ন হয়ে যাবে।

দেশ সেরা অনলাইন শপিং এক্সপেরিয়েন্স পেতে অর্ডার করুন প্রায়োরিটি শপে। ঢাকার ভিতরে ২৪ ঘন্টায় এবং ঢাকায় বাইরে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ডেলিভারি বুঝে নেওয়ার পাশাপাশি ই-পয়েন্ট সংগ্রহ করে প্রায়োরিটি সেবা নিন সবার আগে।

ইভ্যালির সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

এভাবে অনেকেই পণ্যের অর্ডার দিয়ে মাসের পর মাস অপেক্ষা করার পরও পণ্য বা টাকা ফেরত কোনটিই পাননি। তাহলে এসব কি চলছে? ইভ্যালি কি ব্যবসা না প্রতারাণা করছে? না তারা ডেসটিনি, ইউনিপে’র মতো এমএলএম ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে? এসব প্রশ্ন বড় থেকে বড় হচ্ছে দিনদিন।

এতো গেল অপেক্ষার গল্প, কিন্তু এই অপেক্ষা কিভাবে করা যায়? এক ক্রেতা ইভ্যালির অফিসিয়াল পেজে পারচেস্ কোড দিয়ে জানতে চেয়েছেন রমজান মাসে শাড়ির অর্ডার করেছিলাম ঈদে পরবো বলে। রমজানও গেল ঈদও গেল শাড়ি আর পাইলাম না। কবে পাবো বলতে পারেন? বা আদৌ পাবো কি?

ফিরে আসি মি. সিরাজুল হোসাইসের ফেসবুক পোস্টে, তিনি প্রথম পোস্টটি করার পর দ্বিতীয় আরেকটি পোস্ট করেন, পোস্টটি ‘দ্য ডেলটা মেইল’র পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

”ইভ্যালিকে নিয়ে আমার সমালোচনা করার কি দরকার? একজন টেকনলজি স্টার্টআপ এবং এন্টারপ্রিনিয়র হিসাবে ইভ্যালিকে তো আমার আকুন্ঠ সমর্থনই করা উচিৎ তাদের সার্বিক সাফল্য কামনা করে।

ই-কমার্সের স্বল্প পুঁজির এরকম উদ্যোগ সফল হলে সেটার দেখাদেখি আরও শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে আমাদের দেশে বড় বড় কোম্পানী গঠিত হবে এবং তারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিজ্ঞান, গবেষণা এবং যৌক্তিক সুশৃঙ্খল একটি সমাজের পথে।

কিন্তু বিপুল সংখ্যায় হুজুগে মাতাল এবং মৌলিক জ্ঞান বিবর্জিত যে সমাজ সেখানে উদ্ভাবন করতে গিয়ে সজ্ঞানে বা অজ্ঞতাবশত শুভংকরের ফাঁকিতে পড়ে যাবার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশের ইতিহাসে পত্র পত্রিকার পাতায় যত আবিষ্কার বা উদ্ভাবনের খবর প্রকাশিত হয়েছে তার বেশীরভাগই হোক্স বা ধাপ্পা। বেশিরভাগ যান্ত্রিক আবিষ্কার হল তেল ছাড়া ইঞ্জিন বা শক্তি ছাড়া বিদ্যুতের মত অসম্ভব সব আবিষ্কার।

এইসব আবিষ্কারকের সবাই জেনেশুনে ধোকাবাজ নয়, অনেকেই অশিক্ষিত অথবা সীমিত বুদ্ধির। তারা যদি জানত শক্তির নিত্রতার সূত্র তাহলে তারা এগুলো করে অযথা সময় নষ্ট করত না।

এইসব আবিষ্কার কিন্তু শুধুমাত্র গ্রাম্য স্বল্প শিক্ষিত মানুষের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও এমন বহু আবিষ্কার পত্রিকার পাতায় ছাপিয়েছেন যেগুলো আসলে তেমন কিছু নয়।

যারা তেল ছাড়া ইঞ্জিন বা শক্তি ছাড়া বিদ্যুতের মত অসম্ভব আবিষ্কার করছেন তারা অনেকেই জানেন না পদার্থ-শক্তির নিত্যতার সূত্র। সেটা হল শক্তি পেতে হলে সুপ্ত শক্তি দিতে হবে সেটা রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকেই হোক বা পারমানবিক ফিশন বা ফিউশন।

কোন প্রসেসই শক্তি তৈরী করতে পারে না। তাদের ভ্রান্তিটা হল তারা কোন পার্পিচুয়াল মোশন মেশিন দেখে বিভ্রান্ত যেটা চলতে যে সামান্য শক্তির প্রয়োজন সেটা আসে এমন কোন স্থান থেকে যেটা সবসময় দৃশ্যমান নয়।

ব্যবসা বা অর্থনীতিতেও মুক্ত পরিস্থিতিতে দির্ঘ সময়ের জন্য অর্থ, শ্রম ও সম্পদের নিত্যতা সত্য। আমাদের সবার যত টাকা আছে, যত শ্রম আছে আর যত সম্পদ আছে সব মিলে নিত্য বা কনস্ট্যান্ট। টাকা আমরা তৈরী করতে পারি না (নকল টাকা ছাপানো ছাড়া)। টাকা সম্পদ ও সার্ভিস শুধু আমরা হাতবদল করতে পারি যার ফলে একজনের টাকা আর একজনের কাছে যায় এবং আমরা যে ভ্যাল্যু অ্যাড করি সেটা থেকে লাভবান হই।

মুল্যবান কোন কিছু আবিষ্কার না করে (বা তাতে ভ্যাল্যু অ্যাডিশন না করে) আমি একজনের সম্পদ আর একজনের কাছে হস্তান্তর করে বিপুল পরিমান মার্জিন ক্রিয়েট করতে পারি না। যে বিপুল পরিমান ছাড় বা মার্জিন আমি ক্রেতাকে দিচ্ছি ঐ মার্জিনের সমপরিমান অর্থ কাউকে না কাউকে হয় অর্থ বা শ্রমে পরিশোধ করতে হবে।         

কোন বিক্রেতাই তার পণ্যের জন্য লাভের ১০০% বা তার বেশী ছাড় দিতে পারে না সামান্য প্রমোশন ছাড়া। যেটা কখনই তার নেট লাভের চেয়ে বেশি হতে পারে না। ইভ্যালী এই অপরিশোধিত অর্থকে একটি প্রতিশ্রুতি তৈরী করে (ক্যাশব্যাক) তার কাছে জমা রাখছে যেটা একদিন না একদিন তাকে পরিশোধ করতে হবে। বিষয়টা আসলে একটা ব্যাংকিং প্রসেস। 

ইভ্যালী আসলে একটা ব্যাংক যে শুধু টাকা নয়, পণ্যকে সঞ্চয় এবং ঋণ ইন্সট্রুমেন্টে কনভার্ট করে প্রতিশ্রুতি পত্রে ব্যবসা করতে চাইছে। দেখা যাক একটা ব্যাংক কি করে।

সে নির্দিষ্ট সুদে টাকা জমা রাখে। সেই টাকা সে অধিক সুদে ধার দেয়। সঞ্চয়ের সুদ এবং ঋণের সুদের যে তফাৎ, সেই অতিরিক্ত অর্থ থেকে তারা নিজেদের পরিচালন ব্যায় ও লাভ অর্জন করে থাকে। সঞ্চয় যে করে তার টাকাই আসলে খাটে এবং তাকে শুধু একটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে সে চাইলেই তার টাকা প্রাপ্য সুদসহ সে ফেরত পাবে।

এখন ধরা যাক কোন ব্যাংক যে সুদের হারে ঋণ দেয় তার চেয়ে ঢের বেশী হারে কোন সঞ্চয় স্কিম ঘোষনা করল। যেমন ধরা যাক সে ঘোষণা করল ৫০% সুদে এফডিআর। এতে লক্ষ লক্ষ লোক সেই ব্যাংকে এফডিআর করবে।

ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা জমা হয়ে যাবে। প্রশ্ন হল সে যখন ঋণ দেবে তখন তো সে বাজার মুল্যের বেশি সুদে দিলে কেউ সেই ঋণ নেবে না। সেটা যদি ১৫% হয় তাহলে বাকি ৩৫% টাকা কোথা থেকে আসবে?

অবশই ব্যাংকটিকে তখন আসল ভেঙে যারা সুদ চায় তাদের টাকা দিতে হবে। এই ব্যাংকটির এই পলিসি নিয়ে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার কোন পথ খোলা নেই দেউলিয়া হওয়া ছাড়া। তার হাতে দুটি অপশন থাকবে। এক হল ক্রমেই গ্রাহক বাড়ানো যাতে সে লালবাতি জ্বলার সময়টা পেছাতে পারবে যেটা আসলে এমএলএম ব্যবসা।

গ্রাহক বাড়তে থাকলে সে কোন সমস্যা অনুভব করবে না (যদি ভবিষ্যতের চিন্তা না করে)। অথবা সে ক্রমেই তার সুদের হার কমিয়ে স্বাভাবিক হারে নেমে আসতে পারে। তবে এখানে একটা সমস্যা আছে। সুদের হার কমালে তাকে প্রতিযোগী অন্য ব্যাংক থেকে বেশী কমাতে হবে কারণ তার আগের দায় থাকবে। এর ফল হচ্ছে আসলে ব্যবসাটা টেকানো কঠিন হবে।

ব্যাংকগুলো যখন সঞ্চয় এবং ঋণ ইন্সট্রুমেন্টের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি বিক্রয় করে তারা কখনই যেন নিজের পরিশোধের সীমার বাইরে না যেতে পারে তার জন্য রেগুলেটর থাকে (যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক) এবং তাদের প্রতিশ্রুতির অর্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ তৃতীয় পক্ষ তথা নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা রাখতে হয়। এর কারণ হল সে তার প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারলে যাতে তৃতীয় পক্ষ সেটা গ্রাহকে পরিশোধ করতে পারে।

ইভ্যালীর মত যারা ‘প্রতিশ্রুতি’ বা ক্যাশব্যাক ব্যবহার করছে তারা আসলে একটি ফাইন্যান্সিয়াল ইনসট্রুমেন্ট তৈরী ও ব্যবহার করছে যা আসলে ব্যাংকের মতই তাই ব্যাংকের গ্রাহক সিকিউরিটির নিয়ম কানুন এখানেও প্রবর্তিত হওয়া দরকার।”

এখনও বলা হয়নি ইভ্যালি কেমন কোম্পানী?

প্রথম আলো’র ২০২০ সালের আগষ্টে করা এক প্রতিবেদনে উঠে আসে- “ডিজিটাল ব্যবসার নতুন ফাঁদ ই–ভ্যালি”

  • ই-ভ্যালি একটি পারিবারিক কোম্পানি।
  • আরজেএসএসি থেকে নিবন্ধন ২০১৮ সালের ১৪ মে।আনুষ্ঠানিক যাত্রা ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
  • কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫ লাখ টাকা, পরিশোধিত মূলধন ৫০ হাজার টাকা।
  • প্রতি মাসে লেনদেন এখন ৩০০ কোটি টাকা।
  • এ পর্যন্ত পণ্য বিক্রি ১,৫০০ কোটি টাকার।
  • ৩৫ লাখ গ্রাহক নিবন্ধিত।

ইভ্যালির অভিনব বিক্রয় পদ্ধতি, গ্রাহকের হয়রানি ও হাস্যরসের সমাহার

গত ২৪ জুন ই-ভ্যালি থেকে দুটি ফ্যান কেনার অর্ডার দিয়েছিলেন মিরপুরের বাসিন্দা কামরুল আহসান। দাম ৫ হাজার ৮০০ টাকা। তিনি জানান, ই-ভ্যালি তাঁকে বলেছিল ৭ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফ্যান পৌঁছে দেবে বাসায়। অর্ডারের সঙ্গে ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৫ হাজার ২২০ টাকা ক্যাশব্যাক পান কামরুল। এই টাকা ই-ভ্যালির সরবরাহ করা কাচ্চি বিরিয়ানি খেয়ে শেষ করেন। কিন্তু দুই মাস হতে চললেও ফ্যান আর পাননি তিনি।

কামরুল আহসান বলেন, ‘ফ্যান আমার দরকার ছিল বলেই অর্ডার দিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে করতে একপর্যায়ে বাজার থেকে ফ্যান কিনে ফেলি। ই-ভ্যালি যদি কোনো সময় ফ্যান দেয়ও, তা দিয়ে কী করব, এখন আছি সেই দুশ্চিন্তায়’।

প্রচলিত পদ্ধতিতে পণ্য কেনার সঙ্গে সঙ্গে দাম পরিশোধ করতে হয়। দেশে কিস্তিতে ও বাকিতে পণ্য কেনার সুযোগও তৈরি হয়েছে এখন। আর গত কয়েক বছরে জনপ্রিয় হয়েছে অনলাইনে কেনাকাটা। করোনাকালীন সে প্রবণতা বেড়েছে কয়েশগুন। সাধারণত ক্যাশ অন ডেলিভারি বা সিওডি গ্রাহকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য। পণ্য সরবরাহ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম পরিশোধ করতে হয় । কিন্তু ই-ভ্যালি এ পথে হাঁটছে না। ই-ভ্যালি থেকে পণ্য কিনতে গেলেই দাম পরিশোধ করতে হয় আগেই। অ্যামাজনেও একই নিয়ম। কিন্তু অ্যামাজন সঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহে মরিয়া হয়ে কাজ করে। জেফ বেজোস তার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “গ্রাহকের কাছে আমার ইমেইল দেয়া আছে। আমি গ্রাহকের ইমেইল পড়ি নিয়মিত। পণ্যের প্যাকেজিং থেকে সরবরাহ সব বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ শুনি ও তার সমাধান করি। তাই ইমেইল বিষয়ে কোন মিটিং ডাকলে টিম এর সবাই একটু ঘাবড়ে যায়। কারণ তারা জানে আমার কাছে গ্রাহকের অভিযোগ এসেছে।”

শুরুতে যে বলা হলো এক লাখ টাকার পণ্য কিনে এক থেকে দেড় লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়, ই-ভ্যালি এই ফেরতের নাম দিয়েছে ‘ক্যাশব্যাক’। ক্যাশব্যাক জমা হয় ই-ভ্যালি ব্যালান্সে। তা–ও আবার তিন দিন পর। এই টাকায় ই-ভ্যালি থেকেই অন্য পণ্য কিনতে হয়। সে ক্ষেত্রে পণ্যের ৬০ শতাংশ দাম গ্রাহক পরিশোধ করতে পারেন ব্যালান্স থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ পকেট থেকে দিতে হয়।

 ই-ভ্যালির রয়েছে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত ‘ভাউচার অফার’। আরও রয়েছে ‘ক্যাম্পেইন’ নামক একটি বিকল্প কর্মসূচি। ক্যাম্পেইনভেদে পণ্য সরবরাহ করা হয় ৭ থেকে ৪৫ দিনে। ই-ভ্যালি এ–ও বলছে, অনিবার্য কারণবশত ক্যাম্পেইনে যেকোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পরিমার্জনের সম্পূর্ণ অধিকার ই-ভ্যালি কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তবে কিছু গ্রাহকের অভিযোগ হচ্ছে, বেঁধে দেওয়া সময়ে তাঁরা পণ্য পাচ্ছেন না। আর ই-ভ্যালির জবাব হচ্ছে, স্টক থাকা সাপেক্ষে পণ্য দেওয়া হয়, এমনকি চাইলেই গ্রাহকেরা টাকা ফেরত নিয়ে যেতে পারেন।

ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের বাসিন্দা আমানউল্লাহ চৌধুরী গত ১৪ জুলাই দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এক আবেদনে ই-ভ্যালি নিয়ে তদন্ত করার অনুরোধ জানান। যোগাযোগ করলে আমানউল্লাহ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ই-ভ্যালি হচ্ছে ডিজিটাল এমএলএম কোম্পানি। দেশের ই-কমার্স প্ল্যাটফরমকে বাঁচাতে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা উচিত।

তবে দুদকের মুখপাত্র প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, অনেক অভিযোগ আসে। এ ব্যাপারেও হয়তো এসেছেও। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের গ্রাহকরা কেমন?

নিচে ইভ্যালির গ্রাহকদের মন্তব্য ও মতামতের কিছু স্ক্রিনশট দেয়া হলো। নানাধরণের গ্রাহকের মেলা এই দেশে। কেউ মি. রাসেলের কাছে পণ্য পাবার জন্য অনুনয় বিনয় প্রকাশ করছে। কেউবা প্রকাশ করছে অসন্তোষ।

কাকলী ফার্ণিচার, ক্রেতার মন ও ইভ্যালি মডেল

নিশ্চই কাকলী ফার্ণিচারের বিজ্ঞাপনের কথা মনে আছে, এইতো সপ্তাহ দুয়েক আগের কথা। দামে কম মানে ভালো কাকলী ফার্ণিচার। হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল সেই বিজ্ঞাপনের পিছনে সবাই। বিজ্ঞাপন আপলোডের কয়েক মুহূর্তের মাথায় লাখ লাখ ভিউ আর হাজার হাজার শেয়ার। ভাইরালও হয়েছিল বিজ্ঞাপনটি-

কিন্তু কেন এই বিজ্ঞাপনকে মানুষ এতা গুরুত্ব দিলো?

এবিষয়ে বেশ কয়েকজন ই-কমার্স উদ্যেক্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে গ্রাহকদের মানসিকতা সর্ম্পকে। তারা বলেন যারা অনলাইনে কেনাকাটা করে তাদের একটা অংশ লোভনীয় অফারের অপেক্ষায় বসে থাকে। আর এই সরলতার সুযোগ নেয় নামধারী কিছু ইকমার্স ।

এখানে আমাদের বিরাট একটা কমিনিউকেশন গ্যাপ আছে। বিশেষ করে সঠিক তথ্য জানার, বুঝার এবং পণ্য বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে । যদিও কাকলী ফার্নিচার নিয়ে হাসাহাসি হয়েছে কিন্তু বাস্তবে সবাই দামে কম, মানে ভালো পণ্য আশা করে যা প্রায় অসম্ভব। ইভ্যালি এই “দামে কম মানে ভাল” মানসিকতার উপর ভিত্তি করেই ব্যবসা শুরু করেছে।

এ সমস্যা থেকে উত্তোরনের উপায় জানতে চাইলে তারা বলেন, এর একটাই সমাধান গ্রাহকদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন । বেরিয়ে আসতে হবে চটকদার বিজ্ঞাপন ও লোভনীয় অফারের মোহ থেকে । দামে অপেক্ষাকৃত বেশি, মানে ভাল পণ্য কিনতে আগ্রহী হতে হবে।

চোরাই লুঙ্গি ও ক্রেতার লোভ-

এতো কথার ভীড়ে একটা গল্প না বললেই নয়, মাস তিনেক আগের কথা রায়হান (ছদ্দনাম) মতিঝিল থেকে অফিস শেষ করে গুলিস্তান হয়ে বাসায় ফেরার পথে শুনলেন, ”৫৫০ টাকার লুঙ্গি একদাম ৫০ টাকা, ভাই নিবেন নাকি?” কত হলে দিবেন? কানে কানে বলল বিক্রেতা, ”ভাই এটা চোরাই লুঙ্গি আপনার জন্য একদাম ৫০ নিলে তাড়াতাড়ি নেন।” কিছু কম হয় না? ”যান ৩০ টাকা দেন। পুলিশ আসবো।”

৩০ টাকায় চোরাই নতুন লুঙ্গি কিনে মনের সুখে বাসায় এসে ভাজ খুলতেই বেরিয়ে আসলো আসল চিত্র, মনে হলো ইথারে ভেসে আসছে গাজী আজহারের কন্ঠ, না ভাই ইহা কোন চোরাই লুঙ্গি নয়। ছিঁড়া ফাটাঁ, আংশিক রঙ্গিন লুঙ্গি। মূলত পুরনো লুঙ্গি মাড় দিয়ে, ইস্ত্রি করে এই সকল লোভী ক্রেতার কাছে বিক্রি করছে প্রতারকরা।

এতো একটা গল্প, এমন হাজার গল্প আছে প্রতারণার আর প্রতারণার ফাঁদে পড়ার। ৫৫০ টাকার লুঙ্গি ৩০ টাকায় নিচ্ছেন একমাত্র লোভের মোহে পড়ে। ঘুরে ফিরে হয় আপনি প্রতারণার শিকার না হয় আপনি নিজেই প্রতারক। ঠকছেন বা ঠকাচ্ছেন।

ইভ্যালি ও ই-কমার্স সাইটগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন-

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালি লোকসানে পণ্য বিক্রি করছে। যে কারণে দেশের ই-কমার্স ব্যবসায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ভালো ও সৎ ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং ভবিষ্যতে এই খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

অগ্রিম পণ্যমূল্য নিয়ে ও উচ্চ হারে ছাড় দিয়ে ই-ভ্যালির গ্রাহকদের অর্থকে ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলের কাছে মনে হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহকের কাছে এবং পণ্য উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারীদের কাছে বকেয়া বাড়ছে কোম্পানিটির। কোম্পানিটি চলতি দায় ও লোকসানের দুষ্ট চক্রে বাধা পড়েছে। ক্রমাগতভাবে এমন দায় তৈরি হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব টিকে না থাকার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

বলা হয়েছে, কোম্পানিটির লোকসান দিন দিন বাড়ছে। প্রথম বছর কোম্পানিটির নিট লোকসান হয় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। গত ১৪ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির পুঞ্জীভূত লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় ৩১৬ কোটি টাকা। আগের দায় পরিশোধ ও লোকসান আড়াল করার জন্য কোম্পানিটি সাইক্লোন, আর্থকোয়েক নামের বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার দিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রয়াদেশের ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহককে তার পরিশোধিত মূল্যের পরিবর্তে পণ্যটির বাজারমূল্য ফেরত দিচ্ছে। তাই বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অনেক বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় ই-ভ্যালির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। অদূর ভবিষ্যতে দায়দেনা কাটিয়ে ওঠার কোনো গ্রহণযোগ্য পরিকল্পনা বা সম্ভাবনা দেখতে পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ই–ভ্যালির গ্রাহক ছিল ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার জন। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির দেনার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০৩ কোটি টাকা, আর চলতি সম্পদ ছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকার। এই সম্পদ দিয়ে কোনো অবস্থাতেই কোম্পানিটি দায় পরিশোধ করতে পারবে না। এ ছাড়া পণ্যমূল্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৪ কোটি টাকা নিয়েও পণ্য সরবরাহ করেনি ই–ভ্যালি। আবার যেসব কোম্পানির কাছ থেকে ই-ভ্যালির পণ্য কিনেছে, তাদের কাছেও এর বকেয়া পড়েছে ১৯০ কোটি টাকা। চলতি সম্পদ দিয়ে বকেয়া অর্থের মাত্র ১৬ শতাংশ পরিশোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ই-ভ্যালির আর্থিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিতে বললেও বারবার সময় চায় ই-ভ্যালি কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকেরা দেখতে পেয়েছেন, অতীতের একটি নির্দিষ্ট তারিখের তথ্য নেই কোম্পানিতে। এর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাও দিতে পারেনি।

ইভ্যালির পরিশোধিত মূলধন এক কোটি টাকা। এর মধ্যে ই-ভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের মালিকানা ৪০ শতাংশ এবং তাঁর স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের ৬০ শতাংশ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপুল লোকসানে থাকলেও এমডি প্রতি মাসে সাড়ে চার লাখ এবং চেয়ারম্যান প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা হারে বেতন নিয়ে থাকেন। এর বাইরে কোম্পানিতে কিছু কর্মকর্তা উচ্চ হারে বেতন পান। এমন কর্মকর্তাও আছেন যিনি মাসে আট লাখ টাকা বেতন পান। কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে তেন পেয়েছেনে ৬২৬ জন।

ব্যাংক বিবরণী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায়ই নগদ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকে থাকা একটি হিসাবের এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ দেভা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নগদ টাকা তুলেছেন হিসাব রক্ষক। এভাবে নগদ অর্থ তোলা ঝুকিঁপূর্ণ। আবার একই পরিমাণ অর্থ বারবার ডেবিট করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইভ্যালি বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় একে নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে। এ ধরনের পরিদশর্নের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনার ত্রুটি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ত্রুটির ব্যাপকতা নিরূপনের জন্য দরকার নিরপেক্ষ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সামগ্রিক নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইভ্যালির দেওয়া অল্প তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানিটির তথ্য ভান্ডারে অনুসন্ধান চালানোর সুযোগ না দেওয়ায় গ্রাহক ও যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য এনে দেওয়া হয়, সেগুলোর প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা ও সঠিকতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গণমাধ্যমকে দেয়া সিইও রাসেলের বক্তব্য-

ইভ্যালির ব্যবসায়ীক কার্যকলাপ নিয়ে গত কয়েকদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলোচনা সমালোচনা চলছে, এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে-

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে ইভ্যালির সিইও মি. মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘এটা একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরিদর্শন। বাস্তবে লোকসানকে এই সময়ে আমরা বিনিয়োগ হিসেবে মেনে নিচ্ছি এবং মুনাফার দিকে যাচ্ছি।’

মি. রাসেল বলেন, ‘গোটা বিশ্বে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে চলছে, আমরাও সেভাবেই চলছি। কোম্পানিটি এই সময়ে বিলুপ্ত করার প্রশ্ন উঠলে সম্পদ-দায়ের পার্থক্যের প্রসঙ্গটি যৌক্তিক হতো। দায়দেনা কাটিয়ে ওঠার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই কথাটি ঠিক নয়। পরিদর্শক দল আমাদের সব কথা শুনতেও চায়নি।’

অর্থ ফেরতের দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পর্কে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘বাস্তব কারণও আছে। অনেকে বোনাস নেয়। অনেকে আংশিক ব্যয় করে ফেলে। আর তথ্য প্রদানের সময় দেওয়া হয়েছে অল্প। তারপরও যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, দেওয়া হয়েছে। স্বীকার করছি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক তথ্য এখনো গোছানো হয়নি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্টার্টআপ উদ্যোক্তা জানান, আমাদের নানা ধরনের গ্রাহক আছে। গ্রাহকদের উপর ভিত্তি করে এই সকল ই-কমার্স ব্যবসা গড়ে উঠে। আমরা যারা সচেতন তাদের আসলে বেছে নিতে হবে কারা ব্যবসায়ী আর কারা প্রতারক।

আমার এক তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এমন অনেক গ্রাহক আছেন যারা ভালো জায়গায় এসে অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট, খারাপ রিভিউ দিতে কারপণ্য হন না। কিন্তু আপনি দেখেন ইভ্যালিকে টাকা দিয়ে বসে আছে, অবস্থা এমন টাকা ফেরত বা পণ্য পাওয়ার জন্য ইভ্যালির হাতে পায়ে ধরছে।

আমরা ইভ্যালির মতো লোভনীয় অফার বা পেমেন্ট আগে নিচ্ছি না, আমরা এটা নিশ্চিত করছি গ্রাহকদের নিকট সসম্মানে পণ্যটি পৌঁছে দিতে।

(চলবে)

2 মন্তব্য

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর