শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home বিনোদন সম্ভাবনাময় তারকা ঐতিহ্যের বেদীতে দাঁড়িয়ে সঙ্গীতে স্বকীয় ধারা সৃষ্টি করতে চাই

ঐতিহ্যের বেদীতে দাঁড়িয়ে সঙ্গীতে স্বকীয় ধারা সৃষ্টি করতে চাই

অদিতি রায়, রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী, মডেল। পড়াশোনা করেছেন কম্পিউটার সাইন্সে। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতেও তালিম নিয়েছেন। সম্প্রতি মডেল হিসেবে কাজ করেছেন বেশ কয়েকটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের সাথে। তার কাজ, স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় ‘দ্য ডেলটা মেইল’এর সাথে ।

কেমন আছেন আপনি? কেমন চলছে সবকিছু?
ভাল আছি। কিন্তু করোনার ভয়াবহতাতো বিভিন্ন দেশে বাড়ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। সে হিসেবে আমার একার ভাল থাকাটাতো সম্ভব নয়। তারপরও নিজের ও পরিবারের সকলকে নিয়ে সুস্থ্য থাকাটাই জরুরী। সেই চেষ্টাই করছি। আমাদের সবার সেটা করা উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। তাহলে এ মহামারীর অবসান হবে। আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবো।

আপনি নিজেকে নিজের আয়নায় কিভাবে দেখেন?
যখন আয়নায় নিজেকে দেখি, তখন আমি সেই মানুষটাকেই দেখি যে দায়িত্ব নিতে খুব পছন্দ করে। যেমন, যখন আমি গানের চর্চা করি, তখন একটা দায়িত্ববোধ কাজ করে। যেন গানটি শ্রুতি মধুর হয় এবং একই সাথে গানের মর্ম যেন মানুষ উপলব্ধি করতে পারে।

আপনি নিজেকে কি হিসেবে দেখতে চান?
আমি নিজেকে সৎ, নিষ্টাবান এবং পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে দেখতে চাই । এবং গানের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দিতে চাই, কারণ আনন্দের অভাবে মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে। জীবনকে অর্থবহ করতে আনন্দের কোন বিকল্প নেই। যে জীবন আনন্দময়, সে জীবন সার্থক।

আপনার নিজের স্বত্ত্বা…
আমি মূলত রবীন্দ্র সংগীত গাইতে ভালোবাসি। কারণ কবিগুরুর বাণীর সাথে আমি আমার মনের কথার অনেক মিল খুজেঁ পাই। আমি বিটিভি’তে রবীন্দ্র সংগীত বিভাগে সদ্য তালিকাভুক্ত হয়েছি। একই সাথে আমি সবধরনের গান গাইতে পছন্দ করি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিএসই’তে স্নাতক (সম্মান) সমাপ্ত করেছি। টুকটাক মডেলিংও করেছি প্রথম আলো’র ‘বর্ণিল’ ম্যাগাজিন সহ বেশ কিছু জায়গায়। কিন্তু একজন সংগীত শিল্পী হিসেবে পরিচয় দিতে আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

ছোটবেলা…
আমার জন্ম সিলেটে, কিন্তু আমার বাবার কর্মস্থল ঢাকা হবার কারণে আমার বেড়ে উঠা পুরোটাই ঢাকায়।

স্কুল জীবন…
হলিক্রস স্কুল থেকে এসএসসি এবং পরবর্তীতে হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করি। স্কুল জীবনে বন্ধুদের সাথে ক্লাসের ফাঁকে মধুর আড্ডা, একসাথে কোথাও বেড়াতে যাওয়া খুব মিস করি।

মজার ঘটনা…
আমার এক বান্ধবীকে এখনও আমার ধন্যবাদ জানানো হয়নি। কলেজে পড়ার সময় সে আমাকে না জানিয়ে রবীন্দ্র সংগীত প্রতিযোগিতায় আমার নাম দিয়ে দেয়। আর আমি সেই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে নেই। আমি তার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ, যদি সেদিন সে আমার নাম না দিতো তাহলে হয়তো সেই প্রতিযোগিতা সর্ম্পকে জানতামই না। গানের প্রতি গভীর যে অনুরাগ তাও হয়তো সৃষ্টি হতোনা। আজকে ওকে আমি ধন্যবান দিতে চাই। ওর নাম অনামিকা রয় পাল। প্রিয় বন্ধু আমার। সে এখন অস্ট্রেলিয়ায় থাকে।

আপনার স্বপ্ন…
আমি আমার গানের মাধ্যমে একটা অবস্থান সৃষ্টি করতে চাই। মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই। ঐতিহ্যের বেদীতে দাঁড়িয়ে আমি সঙ্গীতের একটি স্বকীয় ধারা সৃষ্টি করতে চাই ।

ভবিষৎতে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?
আমার একটাই চাওয়া, আমার সৃষ্টি দিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকা। গান আমার আত্মা। আমি যখন গানের রেওয়াজ করি, তখন আমি গানের বাণী অনেকবার পড়ি। সেটি বোঝার চেষ্টা করি। ভালভাবে গান করার জন্য এটি খুব জরুরী বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি মনে করি একজন শিল্পীর গানের বাণীকে নিজের মাঝে ধারণ করাটা জরুরী।

গানের পাশাপাশি মডেলিংটাও চালিয়ে যেতে চাই। আমার একটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ আছে ।

এদুটোর লিংক এখানে দিয়ে দিলাম। ইচ্ছে হলে পাঠক ভিজিট করতে পারেন……
FB: @AditiRoy.Music
Youtube: youtube.com/watch?v=2yVZ0UWnplk

আপনার প্রিয় মানুষ কে? রোল মডেল…
আমার মা। উনি শিক্ষিকা ছিলেন। পরবর্তীতে আমাদের মানুষ করতে তাঁকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। উনি অনেক ধের্য্যশীল একজন মানুষ। পরিবারের জন্য উনি অনেক সেক্রিফাইজ, অনেক কমপ্রোমাইজ করেছেন। আমার মা’ই আমার রোল মডেল।

সংগীত জীবন….
সংগীতের প্রতি আমার ভালোবাসা সেই ছোটবেলা থেকেই । তালিম নেই রবীন্দ্র, নজরুল ও শাস্ত্রীয় সংগীত বিষয়ে। সংগীতের হাতেখড়ি আমার মায়ের কাছেই। বাবা- মায়ের অনুপ্রেরণাতেই পরবর্তীকালে প্রয়াত অজিত রায়, ওস্তাদ ইয়াকুব আলী খান এর কাছ থেকে তালিম নেই। আমি লিলি ইসলামের পরিচালিত ‘উত্তরায়ণ’ গ্রুপের সাথেও যুক্ত রয়েছি। পাশাপাশি বর্তমানে আমি ইসরাত জাহান বিথী ম্যাডামের কাছ থেকে সংগীতে তালিম নিচ্ছি।

কেন রবীন্দ্র সংগীত….
রবীন্দ্রনাথের গানের বাণী এবং সুর এতো শক্তিশালী যে জীবনের যেকোন মূহুর্তের অনুভূতি তার রচনায় খুঁজে পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথ আমার আলোকবর্তীকা। কবিগুরু তাঁর একজীবনে আমাদের জন্য যা রেখে গেছেন, আমরা শত জীবনে তা শেষ করতে পারবোনা।

সঙ্গীতের আধুনিকায়ন নিয়ে আপনার মতামত কি, মিউজিক নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার ইচ্ছে আছে কি না?
অতিরঞ্জন বা উদ্ভট কিছু না করে লোক সঙ্গীত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের আধুনিকায়ন করা যেতে পারে গানের মূল ভাব ঠিক রেখে ।

গান নিয়ে নতুন করার চিন্তা আমার আছে। ‘সুখহীন নিশিদিন পরাধীন হয়ে’ রবীন্দ্রনাথের এ গানটি আমার এক্সপেরিমেন্টাল ঘরানার।

রবীন্দ্র সঙ্গীতের জন্য আপনি কোন জায়গাকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন? ঢাকা না কোলকাতা? সঙ্গীতের জন্য আমার কাছে স্থান গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে সাধনা হলো গুরুত্বপূর্ণ । সাধনাই একজন শিল্পীর উত্তরণের একমাত্র পথ। তবে সুযোগ ও সাহচর্যও বড় বিষয়।

নিজের এমন কোন কাজ যা আপনার নিজেরেই পছন্দ হয়নি…..
না, এখন পর্যন্ত নেই। কারণ আমি কাজ নির্বাচনের ব্যাপারে বেশ খুঁতখুতে এবং কোন কাজ শুরু করলে আমি সর্বোতভাবে চেষ্টা করি সেটা সর্ম্পূণ করার।

প্রিয় জায়গা…
পাহাড়ে দাঁড়িয়ে সমুদ্র দেখা। এ এক অসাধারণ অনুভূতি। পাহাড় ও সমুদ্রের এই মেলবন্ধনের দেখা আমি পাই হিমছড়িতে। হিমছড়ি তাই আমার প্রিয় স্থান।

পছন্দ…
আমি ঘুরতে খুব পছন্দ করি। আমার ড্রাইভ করতে খুব ভালো লাগে। সময় পেলেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে যাই।

অপছন্দ
জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন। কারণ সৃষ্টিকর্তা নারী-পুরুষ উভয়কেই সমান যোগ্যতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাহলে আমরা কেন সেখানে পার্থক্য খুঁজবো? আমি সবার জন্য সাম্য ও ন্যায়ের একটি পৃথিবী চাই।

প্রিয় লেখক…
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেপোলিয়ন হিল, ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল।

প্রিয় বই…
রোড টু সাকসেস্।

পছন্দের নায়ক…
চঞ্চল চৌধুরী, টম ক্রুজ, লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও ।

পছন্দের গায়ক…
মিতা হক।

প্রিয় সিনেমা…
শাটার আইল্যান্ড।

প্রিয় খাবার…
মায়ের হাতে যেকোন খাবার।

কেমন বাংলাদেশ চান?
এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে প্রত্যেকটি মানুষ হবে শুদ্ধমনের, মুক্তমনের । কোন পরনিন্দা নেই, নেই কোন পরচর্চা, থাকবে না কোন নোংরা রাজনীতি। প্রত্যেকে প্রত্যেককে সাহায্যে করবে। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ যদি সৎ চিন্তা দিয়ে কোন কাজ করতে চায়, সেই কাজে সফলতা আসবেই এবং দেশও সমৃদ্ধ হবে। আরেকটা কথা আমি বিশ্বাস করি, শুদ্ধ মনের মানুষ না হলে শিল্পকে ধারণ করা যায় না।

একদিনের জন্য ক্ষমতা পেলে কি করবেন?
সব বৃদ্ধাশ্রম তুলে দিব। সত্যি বলছি, কারণ আমি আমার পরিবার থেকে দেখেছি। আমার দাদি শ্বাশুড়ীর বয়স প্রায় ৯৫ বছর। বাবা-মা উনার সর্ম্পূণ দেখাশুনা করছেন। উনাদেরও তো বয়স হয়েছে, আমার বাবা- মা যদি পারেন, তাহলে সবাই কেন পারবে না? ইচ্ছা শক্তিটাই আসল।

তরুণদের উদ্দ্যেশে…
ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে তরুণরা সোস্যাল মিডিয়ার সাথে অনেক বেশি এনগেজড হচ্ছে। এটি ভালো, কিন্তু এর বেশ কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে পরিবারের সাথে বন্ধন কমে যাচ্ছে। এটা এক ধরণের সামাজিক বিপর্যয়। পরিবারকে সময় দিতে হবে, একই সাথে বাইরের জগতের সাথেও সম্পর্ক থাকতে হবে। সবকিছুকে সমন্বয় করে চলাই হলো জীবনের সার্থকতা।

ভয় পেলে চলবেনা। শঙ্কাহীন চিত্ত নিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে হবে। নিজেকে কনফিডেন্ট করে গড়ে তুলতে হবে। অনেক বেশি জানতে হবে, পড়তে হবে।

আমি এই সাক্ষাৎকারটি খুব উপভোগ করেছি। ডেলটা মেইল যে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংশনীয়। ডেলটা মেইল’র উত্তোরত্তর সফলতা ও শ্রীবৃদ্ধি কামনা করছি।

ধন্যবাদ ডেলটা মেইল পরিবারকে।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর