শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home মতামত সাক্ষাৎকার জিমি আমির: নিঃশঙ্ক চিত্ত, স্বপ্নযাত্রা ও নারীর শেকলভাঙ্গার গান (পর্ব -১)

জিমি আমির: নিঃশঙ্ক চিত্ত, স্বপ্নযাত্রা ও নারীর শেকলভাঙ্গার গান (পর্ব -১)

সাক্ষাৎকার: সফলতায় ও সংগ্রামে নারী

জিমি আমির। সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক। বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তাঁর জীবনের দূর্দান্ত যাত্রা, শেকল ভাঙ্গার গল্প, সফলতা, প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় ‘দ্য ডেলটা মেইল’র সাথে।

কেমন আছেন? নিজের সম্পর্কে বলুন

করোনার এই দুঃসময়ে ভাল আছি বলাটা সাহসের বিষয়। তবে, ভয় শংকা কাটিয়ে সবাইকে নিয়ে সুস্থ্ ও নিরাপদেই আছি বলা যায়।

নিজের সম্পর্কে বলার মতো বড় হইনি এখনো (হাসি)। তবু যখন বলছেন তো বলি, লেখাপড়া বলতে ইংলিশ এ অনার্স করেছি। এরপর মনে হলো আমার আসলে কি করা উচিত। আমি এমন একটা পরিবারে বড় হয়েছি যেখানে ‘মেয়েরা নিজের প্রতিষ্ঠা পাবার স্বপ্ন দেখতে পারে’ এটাই একটা স্বপ্নের বিষয় ছিল। বিষয়টা এমন ছিল পড়াশোনা শেষ করে একটা চাকরি করলেই হল। আমার বাবা একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। বাবারও ইচ্ছে ছিল তার মেয়ে পড়াশোনা করবে, চাকরিও করবে। তবে সেটা একেবারেই টিপিক্যাল ওয়েতে। যেমনভাবে আরও আট-দশটা মেয়ে বড় হয় সেভাবে।

ছোটবেলা থেকে আমি একটু স্বাধীনচেতা, একটু ডায়নামিক চিন্তা করি। সবসময় মাথায় ঘুরতে থাকে, আমি এটা হব, ওটা কররো। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নিজের মনের বিরুদ্ধে কিছু করতে গেলেই একধরণের মানসিক দ্বন্দ সৃষ্টি হয়, নিজের কাছে নিজেকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

বৃত্ত থেকে বাইরে, স্বপ্নমেলে ডানা

আমার মধ্যে সবসময় একটা ইচ্ছে কাজ করত। যেকরেই হোক আমি এই বৃত্ত থেকে বের হবোই। এটা করা যাবে না, ওটা করতে পারবা না। এই ‘না’ থেকে, সীমাবদ্ধ জীবন থেকে নিজেকে মুক্ত করতেই হবে।

তারপরও জীবনে অনেক স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আমার গান গাওয়ার খুব শখ ছিল। সেই সময় গান গাওয়াটা হয়নি পারিবারিক বিধিনিষেধ আর প্রতিবন্ধকতার কারণে।

ছোটবেলা থেকে গল্পের বই পড়ার একটা অভ্যাস ছিল। কিন্তু গল্পের বইও তেমন পাওয়া যেত না। জীবনটা এমন হয়ে গিয়েছিল যেন কেউ আমায় শেকল দিয়ে টেনে ধরে আছে। আমি বুঝে গিয়েছিলাম এই শেকল ছিঁড়ে আমাকে বেরুতেই হবে।

২০০৫ সালের দিকে বগুড়ার এক স্থানীয় পত্রিকা লেখা চাইলো, যাদের লেখা পত্রিকায় ছাপা হবে তাদের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেবে। যথারীতি আমার লেখা প্রকাশিত হলো এবং পরবর্তীতে তারা আমাকে ডাকলো নিয়মিত কাজ করার জন্য। বেতন ছিল নামমাত্র। কিন্তু কাজটিকে আমার ভালো লাগা শুরু হয়, মনে হচ্ছিল গন্ডি থেকে বের হওয়ার একটা রাস্তা খুলছে আমার জন্য। আমার নিজের একান্ত ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র ছিল। আমি একটু প্রতিবাদী, একটু যুক্তি তর্ক প্রবণ ছিলাম। যেটা অন্যায়, অবিচার তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে মনে হতো প্রতিবাদের কারণ ও আমার নিজের দুটোরই অস্তিত্ব থাকে না। এটাই আমার স্বত্ত্বা।

প্রায় বছর খানেক সেই পত্রিকায় কাজ করার পর মনে হলো আরেকটু বড় পরিসরে কাজ করতে হবে। তাই এবার ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা। ২০০৬ সাল। আমাদের সময় পত্রিকার প্রথম প্রকাশের বছর। যা দিয়ে আমার ঢাকায় সাংবাদিকতা শুরু। ঢাকায় এসেই যে চাকুরি পেয়েছি বিষয়টা এমন না। অনেক জায়গায় ধর্ণা দিতে হয়েছে। এক সময় হতাশ হয়ে পড়লাম। শেষ পর্যন্ত রাজধানীতে থাকার একটা ব্যবস্থা হয়ে গেল। একইসঙ্গে মিডিয়া ইন্ডাষ্ট্রিতে আমার প্রবেশ।

শুরুটা হয়তো ‘আজকের কাগজ’ পত্রিকা দিয়ে হতে পারতো। কারণ বগুড়ায় থাকা অবস্থায় ঢাকায় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে সেখানে কাজের একটা সুযোগ এসেছিল। কিন্ত তখন আর সেটার সুযোগ হয়ে উঠেনি। আমাকে বলা হয়েছিল নারী পাতা দেখার জন্য, কিন্তু আমি নারী পাতা নিয়ে কাজ করতে স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। মনে হয়েছিল মেইনষ্ট্রিম এর কোন বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত। তখন অনেকেই বললো সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান নতুন একটা পত্রিকা বের করেছে, ‘আমাদের সময়’ তুমি সেখানে সিভি দিয়ে দেখতে পারো। অনেক জায়গাতেই তখন সিভি দেয়া ছিল। অবশেষে নাঈমুল ইসলাম খানের ‘আমাদের সময়’ থেকে ডাক এলো। তারপর তিনি রিপোর্টিং, ডেস্ক ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে বুঝিয়ে দিলেন, এও বলে দিলেন কোনটাতে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারবো। এবার তিনি আমার নিজের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দিলেন।

মোটামুটি এই হলো আমার ঢাকার কর্ম জীবনের শুরু!

দি গ্লাস সিলিং এন্ড দি স্টিকি ফ্লোর

বছর দুয়েক পত্রিকাতে কাজ করার পর টেলিভিশনে গেলাম। একে একে কয়েকটি টেলিভিশনে কাজ করার পরে অনলাইন পোর্টালেও কাজ করলাম। কাজ করতে করতে মনে হলো এটা কি আমি? এখানে কি আমার নিজের কিছু আছে? ওই যে নিজের স্বত্ত্বা, নিজস্বতা ইত্যাদি। কাজ করতে করতে মনে হতো এখানে কি আমার কাজের মূল্যায়ন করা হচ্ছে? মূল্যায়ন করা হলেও আমার কথাটা কি আমি বলতে পারছি? নিজের মতো করে কাজ করতে পারছি? এটা বার বারই ঘটতে থাকে। একটা পর্যায়ে প্রতিবাদ করতে মন চায়। কিন্তু সেটা কি আমি করতে পারছি? এমন না যে আমি কট্টর নারীবাদি। কিন্তু আমি প্রতিবাদি। ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলতে জানি না। আমার কাছে না মানে না, সেটা যাই হোক।

এভাবে প্রায় দীর্ঘ ১৫ বছর সাংবাদিকতায় কাজ করা, তিন (পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইন) জায়গায়। ইন্টারেষ্টিং একটা বিষয় কি জানেন আমাকে অনেকেই নিতে পারতো না। কারণ আমি জানি আমি সেই মেয়ে ঘাড়ের রগ একটু ত্যাড়া। একটি টেলিভিশনে কাজ করার সময় হেড অব নিউজ আমাকে একদিন ডেকে বললো তুমি কি জানো? এই প্রতিষ্ঠানে দুই- তিনটা ঘাড় ত্যাড়া আছে, তার মধ্যে অন্যতম তুমি। কিন্তু এই কথাটাকে তখন আমি কোন গুরুত্বই দেইনি। কারণ আমি জানি আমি কে। আমি ঘাড় ত্যাড়ামি এমনি এমনি করিনা। কথাটি আমি ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছি। আমি যা, তাই তিনি বলেছেন।

ভালো কোন এসাইনমেন্ট দেওয়া, স্যালারি, ইনক্রিমেন্ট, প্রমোশন ইত্যাদি সময় আমি মেয়ে। কিন্তু কাজ করার সময়তো আমাকে শুধু মেয়ে হিসেবে মূল্যায়ন করা হয় না। কাজ ষোল আনা বুঝে নেয় যখন, তখন আমি মেয়ে না?

২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহ আমি কাভার করেছি। সে কাজটা করতে গিয়ে আমাকে ফেস করতে হয়েছে অনেক বাঁধা। আমাকে যেতে দেয়া হবেনা, অফিসে যারা মেয়ে আছে তারা এ এসাইনমেন্টে যেতে পারবে না। এটা ঝুঁকিপূর্ণ। তখন আমি আবার মেয়ে হয়ে গেলাম। সেদিন অফিসে লোকজন কম ছিল, কারণ সকাল থেকেই একটা কনফিউশন চলছিল, বিডিআর সদর দপ্তরে কি হচ্ছে? একটা থমথমে অবস্থা। তারপর আমি চিন্তা করলাম আমি একটু বের হই, আমায় বের হতেই হবে।

আমি অফিসে বসে থেকে কি করব, অফিসে আমার কি কাজ? যাইহোক চেষ্টা করে সেদিন আমি বের হতে পেরেছি। শেষমেষ আমি বিডিআর বিদ্রোহের দুই দিনের ঘটনা কাভার করেছি। অফিসে সবাই আমার প্রশংসা করলো। অফিসে সবাই বলাবলি করা শুরু করলো জিমিকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু জিমিকে কোন সুযোগ সুযোগ দেয়া হয়নি, জিমি সুযোগ করে নিয়েছে। জিমিকে এক্সট্রা কোন প্রিভিলেজ দেওয়া হয়নি। অনেকের সমালোচনার এমন জবাব দিয়েছিলেন টেলিভিশনের চীফ রিপোর্টার। এটা চ্যানেল ওয়ানে থাকা কালিন ঘটনা। চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে ২০১০ সালের ২৭ এপ্রিল।

আমাকে আমার বিটের বাইরে কাজ করতে হয়েছে, অনেক সময় সেটা নিজে থেকেই করেছি বা অফিস থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু উদ্ভট কাজও আমাকে করতে হয়েছে। এটা দিনের পর দিন করতে গিয়ে আমাকে প্রতিবাদ করতে হয়েছে। আমি খুব ডিরেক্ট কথা বলতে পছন্দ করি, পেঁচিয়ে কথা বলতে পারিনা, একদমই পারি না।

আমি বিজনেস ও অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে রিপোর্ট করতাম। ২০১৩ সালে দেশের ইতিহাসে আরেক দূর্ঘটনা ছিল রানা প্লাজা। এই ইস্যুটা ছিল বিজিএমই ইস্যু। কিন্তু আমাকে বলা হলো এটা ক্রাইম বিটের, এটা কোনভাবেই বিজনেসের মধ্যে পড়ে না। বললাম, বিজিএমইএ বিজনেস ও ইকনোমির একটা পার্ট, আমি কেন এটা কাভার করতে পারবোনা। কিভাবে এটা ক্রাইম বিটের অধীনে পড়ে? যদি সেটা ক্রাইমও হয় সেটা কিন্তু বিজনেস বিটেরও আন্ডারেই পড়ে। আর একটা প্রতিষ্ঠানের তো বিভিন্ন বিট টিম থাকে, তাহলে সবদিক থেকে কেন ঘটনাটি তুলে ধরা হবেনা? এখানে ক্রাইমের সাথে বিজনেস বড় একটা ইস্যু। এটা ইন্ডিপেডেন্ট টিভিতে থাকাকালিন ঘটনা।

তখন খালেদ মুহিউদ্দিন ভাই হেড অব নিউজের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু এটা ঘটলো যারা অ্যাসাইনমেন্ট দিতো তাদের সাথে। দুই তিন দিন অফিসে যুদ্ধ করার পর অবশেষে আমাকে এটা কাভার করার সুযোগ করে দেওয়া হলো। আমি লাইভ করলাম, নিউজ কাভার করলাম, তখন তারা ঠিকই আমার কাজ পছন্দ করলো। আসলে তারা আমাকে অবজারভ করেছিল, আমি স্ক্রিনে কি দিচ্ছি? ঠিকঠাক দিচ্ছি কিনা? কতটুকু দিচ্ছি?

এভাবেই কাজ করতে হয়েছে আমার। কখনো কখনো ভিষন ক্লান্ত হয়ে যেতাম।

এমনও হয়েছে একটি বিট বা ঘটনা আমি ধারাবাহিকভাবে কাভার করছি। যেমন, পদ্মা সেতুর ঘটনাটি আমি কাভার করছি। কোনোদিন বড় ঘটনা ঘটলে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, অন্য কাউকে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রতিবাদ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। তখন আমি নিজেই ছেড়ে দিয়েছি, আমি মনকে বুঝিয়েছি আমার আর ভালো লাগছে না। ঠিক আছে অফিস যেমন চাচ্ছে তেমনই হোক।

আমি কখনও আমাকে কেন ইনক্রিমেন্ট দিলেন না, এটা দিলেন না, ওটা দিলেন না এসব নিয়ে বাহাস করিনি। সুযোগ সুবিধা নিয়ে কখনও প্রশ্ন তুলিনি। আমি বাহাস করেছি আমার কাজ নিয়ে, যে কাজ আমার সেটা আমাকে করতে দেন। আপনি আমাকে সুযোগ দেবেন, আমি আপনাকে ভালো আউটপুট দিব। আমি একই সাথে রিপোর্টিং, ডেস্ক, নিউজ প্রেজেন্টেশন ও প্রোগ্রাম করেছি। কিন্তু ১৫ বছরের মাথায় এসে আমার মনে হলো, কি করলাম, কি পেলাম। আসলেই আমি কি করছি? এক ধরনের হতাশা আমাকে পেয়ে বসল।

আমার ফ্রাসট্রেশন শুরু হয় ২০১৭ সাল থেকে। কোথাও কি আমার কোন সমস্যা, আমি কি কাজ করতে পারছি না?

একটা সময় অনলাইন নিউজ পোর্টালে জয়েন করলাম। সেখানে স্যালারি অনেক কম, স্যালারির কোন উন্নতি নাই, ইনক্রিমেন্ট তো নাই-ই। এখানেও হতাশা শুরু হয়। নিউজ পোর্টালে ডেস্কে কাজ করতাম।

শূন্য থেকে শুরু, শেখার সুযোগ

দীর্ঘদিনের হতাশা থেকে হঠাৎ মনে হল, এবার ট্র্যাকটা চেঞ্জ করি, দেখি না কি হয়। পারি কি না? তখন আমার এক সহকর্মীর মাধ্যমে মুনির হাসান ভাইয়ের সাথে কথা হয়। তিনি বললেন তুমি কি ট্র্যাক চ্যাঞ্জ করতে পারবা? তুমি তো সাংবাদিক! তখন উনাকে বললাম জীবনে তো কোন কাজ শিখে শুরু করি নাই, সাংবাদিকতাও তো না জেনেই শুরু করেছিলাম। কম্পিউটার জীবনেও শিখি নাই, কাজ করতে করতে শিখেছি, রিপোর্টিং শিখেছি, ডেস্কের কাজ শিখেছি, প্রোগ্রাম প্রেজেন্টার হয়েছি। সবকিছুই করতে করতে শিখেছি। কোনটাই শিখে শুরু করি নাই। এখন আপনি যদি আমাকে সুযোগ দেন তাহলে আমিও শিখে নিতে পারবো। কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে নতুন করে কিছু শুরু করতে যেমন কেউ চায়না, তেমনি করাটাও কেউ মেনে নিতে চায় না। এমন সিদ্ধান্ত দুপক্ষের জন্যই চ্যালেঞ্জের।

শেষে মুনির ভাই আমাকে সুযোগ করে দিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এ কাজ করার। এখানে মেয়েদের আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে একটি প্রজেক্ট চলমান আছে আমি সেই প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে আছি। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় এই প্রজেক্টটি চলছে। বলিনা আমি খারাপ আছি বা খুশি আছি। তারপরও কাজ করছি। হ্যাপি এই কারণে বলছিনা, তার কারণ ১৫টা বছর একটা জায়গায় কাজ করেছি। সেখানের সবকিছু আমার পরিচিত। আমি চোঁখ বন্ধ করে বলে দিতে পারি এটা কি হতে পারে। এটা আমার দীর্ঘ দিনের অভ্যাসের ফল। কিন্তু এখানে আমি নতুন, নতুন যে ঠিক তা না। এখানে কর্পোরেট সিস্টেমে চলে সবকিছু্। কর্পোরেটটা আমি অতো ভালোভাবে জানি না। বলা যেতে পারে, এখানে আমি কর্পোরেটের ছাত্র।

যখন রিপোর্টিং-এ কাজ করেছি তখন হাই লেভেলের কোন পারসনকে ডিরেক্ট ফোন দিয়ে দিয়েছি। বলেছি আমি ওমুক টেলিভিশন বা ওমুক জায়গা থেকে বলছি, আমি আপনার ইন্টারভিউ নিতে চাই। অনেকে টেলিভিশনের নাম শুনে হ্যাঁ করে দিয়েছে। একটা সময় আমার নিজের নাম দিয়েও, জিমি বললেই অনেকে হ্যাঁ করে দিয়েছে। একদম ডিরেক্ট, তেমন কোন ভদ্রতার বালাইটালাই নেই, থাকলেও সেটা খুব কম। আমার আপনার ইন্টারভিউ লাগবে, অনেক সময় হ্যাঁ করতো, না করলে বলতাম বা এখন সময় নেই বললে বলা হতো ৫ মিনিটের জন্য হলেও আমাকে সময় দিতে হবে। জিমিকে না বললেও জিমি চলে গেছে। কিন্তু কর্পোরেট কালচারটা কি?

কারো সাথে দেখা করতে গেলে বা যোগাযোগ করতে গেলে ফরমাল একটা প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। মাঝে মধ্যে আমি গুলিয়ে ফেলি। কিন্তু এটা যে খুব বেশি করে ফেলছি তা না, মাথার মধ্যে থাকে এখন আমি একটা কর্পোরেট কালচারে আছি। আমার কাজটি ফরমালি, স্মুথলি করতে হবে।
আমার কাছে মনে হয় এটা আমার একটা লার্নিং এন্ড গ্রোথ অপরচুনিটি……

মানুষের ভবিষৎ কি, কখন, কোথায় গিয়ে ঠেকে কেউ বলতে পারে না। সর্বোপরি আমি শিখতে চাই, দেখি এটা শিখে কি হয়?

ব্যক্তিগত জীবন….

বিয়ে করিনি। কিশোর বয়সের পরে একটা সম্পর্ক হয়েছিল। বেশ লম্বা সময় ধরে ছিলো। এখন অবশ্য নেই। খুব কষ্টে বিয়ে করিনি বিষয়টা ঠিক তেমন নয়। বিয়ে করব না কখনো এমন ভাবনাও ছিল না। ঠিক সেভাবে কাউকে পাইনি বা পাওয়া হয়ে উঠেনি।

অনেকের মধ্যে খোঁজার চেষ্টা করেছি, আসলে আমি পাইনি। পাইনি বললে ভুল হবে, আমি আসলে যান্ত্রিক কোন জীবন চাইনি। তবে, এটা তো সত্য জীবন কখন কোন বাস্তবতার সামনে এনে দাঁড় করায় সেটা তো বলা যায় না।

(চলবে)

5 মন্তব্য

  1. আপনাদের সবকটি সাক্ষাৎকার আমার পড়া হয়েছে, আমার কাছে একটাকেও সাক্ষাৎকার মনে হয়নি। এ যেন এক অজানা গল্প, ক্লিকবাইটের বাইরে অনন্য এক অনলাইন।

    এভাবে হেডলাইন কোন পত্রিকাই দিত না। অন্য কোন পত্রিকা হলে হেডলাইন এমন হতো “দেখুন সাংবাদিক জিমি আমির কি বললেল” বা “বয়স বাড়লেও বিয়ে করেননি সাংবাদিক জিমি আমির” (হাহাহা)

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর