বুধবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২২

Close

Home বিশেষ খবর যৌন জ্ঞান: পর্ব ১ – অ্যাসেক্সুয়াল কারা, কীভাবে চিনবেন

যৌন জ্ঞান: পর্ব ১ – অ্যাসেক্সুয়াল কারা, কীভাবে চিনবেন

ডেল্টা মেইল বিশেষ প্রতিবেদক :

একজন ত্রিশোর্ধ অপরূপা সুন্দরী নারী শায়লা (ছদ্মনাম) যিনি কখনো বিয়ে করেননি বা বিয়ে করতে আগ্রহী হননি। তাকে কাছের মানুষ, পরিবারের সদস্য সবাই বলে বলে এখন আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কখনো বিয়ে করবেন না। কারণ বৈবাহিক সম্পর্কের প্রতি তার কোন আগ্রহ নেই। বিয়ে বা দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতি কেন তার এমন অনাগ্রহ সে বিষয়ে আমাদের আজকের এ প্রতিবেদন।

সংখ্যায় কম হলেও যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অনেকেরই অনীহা রয়েছে। এধরণের ব্যক্তিদের বলা হয় এসেক্সুয়াল বা অযৌনচিত্ত মানুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী এসেক্সুয়ালিটি বা অযৌনচিত্ত টার্ম টি ব্যাপক আকারে পরিচিতি পেয়েছে। এসেক্সুয়াল বা অযৌনচিত্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা পৃথিবীব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি  বাংলাদেশেও এসেক্সুয়াল ব্যক্তিদের একটি কমিউনিটি রয়েছে।

অযৌনচিত্ত বলতে এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝায় যিনি শারিরীক বা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ কিন্তু যৌন আকর্ষণ অনুভব করেন না অথবা যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে আগ্রহ পান না। যৌন সামর্থ্য সত্ত্বেও এমন ব্যক্তিরা চুম্বন-ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে ধরা ইত্যাদিতে স্বস্তি অনুভব করলেও যৌন সম্পর্কে স্থাপনে তাদের সমস্যা হয়।

সমকামী, বিপরীতকামী টার্মগুলোর মতো এসেক্সুয়াল টার্মটির ব্যাপক প্রয়োজন দেখা দেয় যখন কিছু মানুষ বিয়ের পর অথবা পার্টনারের সঙ্গে মিলিত হতে গিয়ে আবিষ্কার করেন তারা যৌন সম্পর্কে আগ্রহ বা স্বস্তি পাচ্ছেন না। বরং এটি তাদের কাছে নিগ্রহ বা নির্যাতন মনে হয়।

এসেক্সুয়াল ব্যক্তিরা রোমান্টিক সম্পর্ক অথবা জৈবিক চাহিদা অনুভব করেন না তাই তাদের জন্য সমাজে একধরণের সাপোর্ট প্রয়োজন।

১৮৯০ এর দিকে অযৌনচিত্ত ধারণাটির প্রথম উদ্ভব ঘটে। জার্মানের যৌন বিশেষজ্ঞ ম্যাগনাস হায়ারস্ফিল্ড তার বইয়ে যৌন সম্পর্কে স্থাপনে অনাগ্রহী ব্যক্তিদের অ্যানেস্থেশিয়া সেক্সুয়াল বলে উল্লেখ করেন। এসেক্সুয়ালিটি বা অযৌনচিত্ত বলতে বর্তমানে যা বুঝায় সেটি ২০ শতকে উদ্ভূত।

অযৌনচিত্ত ব্যক্তিরা যখন নিজেকে বুঝতে চেষ্টা করেন, নিজের কি সমস্যা তা নিয়ে মানসিক দ্বন্দে থাকেন তখন তাদের জন্য এগিয়ে আসে তথ্য প্রযুক্তি। নিজের সেক্সুয়াল আইডেন্টিটি জানতে অনলাইনে কিছু প্রশ্নের জবাবের নিরীখে ব্যক্তি জানতে পারেন তার সেক্সুয়াল আইডেন্টিটি, তিনি এসেক্সচুয়াল কি না। এতে ব্যক্তি হীনমন্যতা থেকে বের হতে পারেন এবং এটিকে নিজের শারীরিক অথবা মানসিক প্রতিবন্ধকতা মনে না করে নিজের প্রকৃত প্রকৃতি নির্ণয় করতে পারেন।

আশার কথা হলো বাংলাদেশে অযৌনচিত্ত মানুষদের একটি কমিউনিটি রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে দি ডেল্টামেইল। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ার ভয়ে তারা সরাসরি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।  সম্প্রতি বিবিসি তাদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে কয়েকজন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অযৌনচিত্ত পুরুষ ও একজন নারীর সঙ্গে কথা হয় দি ডেল্টামেইলের। অযৌনচিত্ত পুরুষ জানান তিনি সামাজিক চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হন। কিন্ত তার সংসার বেশিদিন টেকেনি। কিন্তু তার অনেক ভোগান্তি হয়েছে। শারীরিক সম্পর্কের প্রতি অনিহা দেখে স্ত্রী তাকে সন্দেহ করা শুরু করেন। কিন্তু অবশেষে যখন তার স্ত্রী জানতে পারেন তার সমস্যা তখন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। অযৌনচিত্ত নারী বলেন,‘সামাজিক স্বীকৃতি নিয়ে সংকট পড়তে হয় আমাদের। এসেক্সুয়াল ধারণাটির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত নয়। তারা এটিকে যৌন অক্ষমতা মনে করেন অথবা এটিকে মানসিক ডিসঅর্ডার মনে করেন। তবে ধীরে ধীরে সূচকের উন্নতি হচ্ছে। এসেক্সুয়াল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

উদ্ভূত নতুন এই পরিভাষাটি খুব কমই মানুষেরই দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজের এক অধ্যাপকের সঙ্গে কথা হয় আমাদের। তিনি বলেন, টার্মটি আমাদের নিকট নতুন। এটির ব্যাপারে আমাদের জানাশোনা কম। তবে একটি সুস্থ্য সমাজের জন্য যৌন জ্ঞান  অর্জন ও বিভিন্ন যৌন আইডেন্টিটি ও ওরিয়েন্টেশন সম্পর্কে জানা জরুরী।

তাই যৌন জ্ঞান অর্জন করুন। নিজেকে জানুন, জানুন অন্যকে। বিয়ের আগে অবশ্যই আপনার জীবন সঙ্গী সম্পর্কে জেনে নিন। একটি  সুন্দর, সহনশীল ও মানবিক জীবন ও সমাজ গড়তে যৌন জ্ঞানের বিকল্প নেই। ডেল্টা মেইল যৌন জ্ঞান বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। চোখ রাখুন দ্যা ডেল্টা মেইলে।

ডেল্টামেইল/৮ডিসেম্বর/জেএ

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর