মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২৫, ২০২২

Close

Home জাতীয় নতুন কর্মী নেবে মালয়েশিয়া; বিস্তারিত জানুন

নতুন কর্মী নেবে মালয়েশিয়া; বিস্তারিত জানুন

দীর্ঘ তিন বছর পর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র মালয়েশিয়া। রবার বাগান, কৃষি, শিল্প, সেবা, খনি, নির্মাণ ও গৃহস্থালি সেবা সহ বিভিন্ন খাতে তাদের ৬-৭ লাখ লোকের চাহিদা রয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবেন।

গত সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা বিন জয়েনউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে গত ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে আবার শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা।

মালয়েশিয়া থেকে ফিরে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, আরও কিছু কাজ চূড়ান্ত হওয়ার পর মালয়েশিয়া প্রান্ত থেকে চাহিদা আসার পর কর্মী পাঠানো শুরু হবে। চুক্তিতে কী আছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হবে, তা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। দালাল চক্রের খপ্পরে না পড়তে সাবধান করেছেন তিনি।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, সমঝোতা স্মারকের আলোকে শ্রমিক পাঠানোর চাহিদা দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে প্রস্তাব এখনও আসেনি। দুয়েকদিনের মধ্যে প্রস্তাব আসবে বলে আশা করছেন তিনি। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী চাহিদা পাওয়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোবে; নিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে মালয়েশিয়া প্রান্তেও রিক্রুটিং এজেন্সিও নিয়োগ করতে পারবেন।

যেসব খাতে কর্মী নিয়োগ : রবার বাগান, কৃষি, শিল্প, সেবা, খনি ও পাথর আহরণ, নিরাপত্তাকর্মী, নির্মাণ ও গৃহস্থালি সেবাসহ বিভিন্ন খাত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। নতুন খাত হিসাবে হাউজহোল্ড বা গৃহকর্মী নিয়োগের পথও খুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুনি ৬-৭ লাখ শ্রমিক দরকার আছে ওদের। কিন্তু কোন খাতে দরকার সেটা আমরা জানি না। ৬-৭ লাখ হলেও ওখান থেকে চাহিদা আসার পর জানতে পারব, আমরা কতজন পাঠাব- দুই, তিন না পাঁচ লাখ।”

যে প্রক্রিয়ায় গমন : বাংলাদেশ থেকে সেসব কর্মী যেতে চান, সবাইকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডেটাবেইজে অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে।দেশের সক্রিয় এজেন্সিগুলোর তালিকা মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে সরকার। সেখান থেকে বাছাই করা এজেন্সিগুলো এই প্রান্তে কর্মী নিয়োগের কাজ দেখভাল করবে। এজেন্সিগুলোর গ্রুপিং বা সিন্ডিকেট ঠেকাতে সরকার সচেষ্ট থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ইমরান আহমদ।

মালয়েশিয়া প্রান্তের সব খরচ নিয়োগকর্তার : সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মালয়েশিয়া প্রান্তের সব খরচ নিয়োগকর্তাকে দিতে হবে, যার মধ্যে আসা-যাওয়ার বিমানভাড়াও রয়েছে। নিয়োগকর্তা বেশিরভাগ খরচ বহন করায় শ্রমিকদের ঘাড়ে ব্যয়ের ভার তেমন থাকবে না বলেই আশা করছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী।

মালয়েশিয়ায় রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি নিয়োগ, মালয়েশিয়ায় আনয়ন, আবাসন, কর্মে নিয়োজন এবং কর্মীর নিজ দেশে ফেরত প্রেরণের খরচ বহন করবে। মালয়েশিয়ায় আসার পর বাংলাদেশি কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইনস্যুরেন্স সংক্রান্ত খরচ, কোভিড পরীক্ষার খরচ, কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত খরচসহ সব ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি বহন করবে।

নিয়োগকর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বীমা, চিকিৎসা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করবে। প্রত্যেক কর্মীকে মালয়েশিয়ার এমপ্লয়িজ সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় কর্মকালীন দুর্ঘটনা বা কাজের কারণে শারীরিক সমস্যা হলে চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ পাবে। ফলে কর্মী ফ্রি চিকিৎসা সুবিধা, অস্থায়ী অক্ষমতার সুবিধা, স্থায়ী অক্ষমতার সুবিধা, নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি ভাতা, ডিপেন্ডেন্ট বেনিফিট, পুনর্বাসন সুবিধাসহ মালয়েশিয়ার আইনানুযায়ী প্রাপ্য সুবিধাদি পাবেন।

বাংলাদেশ প্রান্তের খরচের মধ্যে পাসপোর্টের ফি, দেশীয় এজেন্সির ফি, বিএমইটির ফি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ফি এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি রয়েছে। এ সকল খরচ যাতে যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে সরকার তৎপর থাকবে আশ্বাস দেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও সচিব।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, “আমরা কর্মী পাঠাব আমাদের ডেটাবেইজ থেকে। এবং আমাদের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কর্মী যেন একটি পয়সাও দালালকে না দেন। কারণ, এখনও প্রক্রিয়া ‍শুরু হয়নি।যখন প্রক্রিয়া শুরু হবে, সরকারই বলবে। এখন আমাদের ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত না হলে কোনো কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারবে না।”

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মালয়েশিয়া সরকার তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। পাঁচ বছর মেয়াদী এই চুক্তির আওতায় লোক পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিকে। কিন্তু প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশে একটি চক্র ওই ১০ এজেন্সিকে নিয়ে সিন্ডিকেট করে শ্রমিকদের কাছ থেকে দুই বছরে ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মীদের আর ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া। তবে আগে যারা ভিসা পেয়েছিলেন, তারা পরেও মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

 

ডেল্টামেইল/জেএ

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর