শনিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২১

Close

Home সারাদেশ নান্দাইলে শিশু মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার, অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক

নান্দাইলে শিশু মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার, অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক

ময়মনসিংহের নান্দাইলের চন্ডিপাশা ইউনিয়নের দারুল সালাম ক্যাডেট মাদ্রাসার শিশু (বয়স ১১ বছর) ছাত্রকে একাধিকবার বলাৎকারের ঘটনায় ভিকটিম পালিয়ে তার মাকে নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ দেয়ার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক (মুহতামিম) শাকিল মাহমুদ তামীম পতালক রয়েছেন।

সোমবার (১১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ওই শিশুসহ তার মা থানায় মামলা করতে এসেছিল।

অভিযুক্ত শিক্ষক (মুহতামিম) শাকিল মাহমুদ তামীম নান্দাইল উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ধূরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একই উপজেলার নান্দাইল-আঠারোবাড়ি আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত দারুল সালাম ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষক (মুহতামিম)।

ভিকটিম ওই শিশু শিক্ষার্থীর বাড়ি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায়। সে নান্দাইল উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ধূরুয়া গ্রামের রাজু আহমেদের বাড়িতে থেকে দারুল সালাম ক্যাডেট মাদ্রাসায় হিফয বিভাগের পড়ে।

নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান এ ব্যাপারে ভিকটিম শিশুর মায়ের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ধূরুয়া গ্রামের রাজু আহমেদের বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত শিশুটি। গত এক বছরে বিভিন্ন সময়ে তাকে কয়েকবার বলাৎকার করা হয়।

সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আবারও নির্যাতন করা হলে মাদ্রাসার অন্য এক শিক্ষককে বিষয়টি জানায় সে। কিন্তু প্রতিকার না পেয়ে পরদিন সকালে কাউকে না বলে নিজ বাড়িতে চলে যায় শিশুটি।

পরিবারের পক্ষ থেকে ‘সে বাড়িতে চলে আসার কারণ জানতে চাইলে প্রথমে কিছু বলতে চায়নি ছেলেটি। এসময় মাদ্রাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে চাপ দেয়া হলে গত রোববার বিষয়টি তার মাকে খুলে বলে। পরবর্তীতে এ ঘটনার বিষয়ে ‘মা তার ছেলেকে নিয়ে মাদ্রাসায় যাচ্ছেন, এ কথা ওই শিক্ষক(শাকিল মাহমুদ তামীম) জানতে পেরে সোমবার সকালে ঈশ্বরগঞ্জের আঠারোবাড়ি এলাকায় অবস্থান নেন। পরে রাস্তায় শিশুর মায়ের কাছে ক্ষমা চান শিক্ষক। এর পর থেকে তিনি আত্মগোপন করেন।’

কূলধুরুয়া গ্রামের মোঃ শরিফ হাসান বলেন, বাড়ির পাশে মাদ্রাসায় এমন ন্যক্কারজনক কর্মকান্ড হবে তা খুবই দুঃখজনক। তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করছি।

একই এলাকার মোশারফ হোসেন রিয়াদ বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রের ওপর যৌন নিপীড়ন কাম্য নয়। এতে ছাত্ররা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক শাকিল মাহমুদ তামীম পলাতক থাকায় তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘সোমবার রাত ১১টার দিকে ওই শিশুসহ তার মা থানায় মামলা করতে এসেছিল। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করতে আবারও বাড়ি চলে যায়। এ ঘটনার প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর