শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home অন্যান্য রাজধানী পরিবেশ নোংরা না করে নিজের শহর পরিচ্ছন্ন রাখি

পরিবেশ নোংরা না করে নিজের শহর পরিচ্ছন্ন রাখি

মূলকথা আমরা যারা কোরবানি দিচ্ছি আমাদের মাথায় কি সেই বিষয়টি খেয়াল আছে কিভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করব! এটা কি শুধু মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব?

ঈদের দিন দুপুর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করার লক্ষ্য ঠিক করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন আমার টার্গেট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীকে বর্জ্য মুক্ত করা।

তিনি কি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন? মূলকথা আমরা যারা কোরবানি দিচ্ছি আমাদের মাথায় কি সেই বিষয়টি খেয়াল আছে কিভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করব! এটা কি শুধু মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব?

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ব্যক্তি দায়িত্ব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কি বলেন;

কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নিতে হবে ব্যক্তিগত উদ্যোগও-এমনটা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা এবং প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, “কোরবানির সময় যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হবে তা শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে চাপালেই চলবে না। ব্যক্তি পর্যায়েও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি বলেন, এককভাবে, যৌথভাবে বা সমন্বিতভাবে যদি নাগরিকরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারে তাহলে পুরো নগরী বর্জ্যে ডুবে যাবে না।

“এরআগে আমরা দেখেছি, অনেক নাগরিকই কোরবানির পরে বর্জ্যটা যেকোন স্থানে রেখে চলে যায়। এতে একদিকে যেমন নাগরিক সেবা বিঘ্নিত হয়, তেমনি নগর কর্তৃপক্ষ এটা পরিষ্কার করতে সময় নেয়। ফলে সেখান থেকে দুর্গন্ধ এবং রোগজীবাণু ছড়ায়,” তিনি বলেন।

ব্যক্তি পর্যায়ে বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে সচেতনতার পাশাপাশি কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। তারা যেসব উদ্যোগের কথা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে-

প্রথমত, যারা নিজেদের বাড়িতে বা লনে কোরবানি করবেন, তাদেরকে অবশ্যই নিজ দায়িত্বে বর্জ্য পরিষ্কার করতে হবে।

ডা. লেনিন বলেন, অনেকেই কোরবানির পর বর্জ্য নিজের বাড়ির সামনে রেখে চলে যান। সেখানে এটা পচে গন্ধ ছড়ায় এবং মশা-মাছির চারণক্ষেত্রে পরিণত হয়। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেদেরই উদ্যোগী হতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

দ্বিতীয়ত, এককভাবে কোরবানি না করে, মহল্লা ভিত্তিক একটি নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করা যেতে পারে। এতে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সম্মিলিতভাবে বর্জ্য অপসারণও সহজ হয়।

তৃতীয়ত, কোরবানির পর একই ভবনের বেশ কয়েকটি পরিবার মিলে একটি সোসাইটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। যেমন, সবাই মিলে বর্জ্য অপসারণের জন্য লোক ঠিক করা যেতে পারে যারা কোরবানির পর পরই বর্জ্য সরিয়ে নিয়ে যাবে। এতে বর্জ্য অপসারণ দ্রুততর হয় বলে পরিবেশের উপর তেমন প্রভাব পড়ে না।

চতুর্থত, জবাই কৃত পশুর গোবর ও উচ্ছিষ্ট আলাদা করে খোলা ভাবে না ফেলে সেগুলো ব্যাগে ভরে নির্ধারিত স্থান যেমন নিকটস্থ ডাস্টবিন বা কন্টেইনারে ফেলতে হবে। সেখান থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বর্জ্য সহজেই সরিয়ে নিতে পারে।

পঞ্চমত, পশু জবাইয়ের স্থানে কোরবানির পর পশুর রক্ত জীবাণুনাশক পানি দিয়ে ধুয়ে দিয়ে ব্লিচিং ছিটিয়ে দিতে হবে। যাতে করে দুর্গন্ধ বা জমে থাকা পানিতে মশা ডিম পারতে না পারে।

ঈদ এলেই আলোচনায় পরিচ্ছন্নতা;

করোনার এই সময়ে পরিচ্ছন্ন থাকা একটি বড় বিষয়। পরিবেশ নোংরা হলে বিভিন্ন রোগ জীবাণু এমনিতেই ছড়ায়। এর জন্য কোন অবস্থাতেই পরিবেশ নোংরা করা যাবে না।

কোরবানির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে নিজের মধ্যে থাকা পশুত্বকে আগে জবাই করা। লোভ-লালসা ত্যাগ করা।

কারণ কোরবানির পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পরিবেশ নোংরা করা হলে কোরবানির মাহাত্ব্য ও মর্মার্থ দুটিই বিনষ্ট করে।

প্রতিবছর কোরবানির ঈদ এলেই পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর মানে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক নাগরিকই দায়িত্বশীল আচরণ করি। এজন্য আগে আমাদের ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতন হতে হবে।

মেয়র তার দায়িত্ব নিয়ে কি বললেন;

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) দুপুরে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিজেএমইএ কর্তৃক করোনা রোগীদের জীবন রক্ষাকারী বিআইপিএ এবং হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা মেশিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

মেয়র মি. আতিক বলেন, “বর্জ্য মুক্ত করতে আমাদের ১১ হাজার কর্মী কাজ করবে। আমরা আশা করছি ঈদের পর দিন তিনটার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা বর্জ্য মুক্ত করব।

“নগরবাসীকে বর্জ্য ফেলার জন্য ব্যাগসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করবে সিটি করপোরেশন। এরপরও কোনও বাসার সামনে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে রাখা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে বাসার সামনে দেখব যত্রতত্র ময়লা ফেলে রেখেছে, সেখানে আমি ট্রাক দিয়ে ময়লা ফেলে দিয়ে আসব। কারণ, ২০০ লোকের জন্য লাখ লাখ মানুষ সাফার করুক এটা আমি চাই না”।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর