শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home বিনোদন সম্ভাবনাময় তারকা প্রাচুর্য নয়, অভিনেত্রী হিসেবে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চাই

প্রাচুর্য নয়, অভিনেত্রী হিসেবে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চাই

অভিনয় শিল্পী, মডেল ও উদ্যোক্তা আফরিনা আজাদ। কাজ করেছেন মঞ্চ নাটকে, ছোট ও বড় পর্দায় । তার ভাবনা, স্বপ্ন, সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় ‘দ্য ডেলটা মেইল’এর সাথে ।

কেমন আছেন আপনি? কেমন চলছে সবকিছু?
মোটামুটি ভালো আছি। এই মহামারিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্থ আছি, এটাইতো অনেক। মহামারির এই সময়ে বাসায় থাকতে হচ্ছে কারণ বের হওয়ার তো রাস্তা নেই। সব মিলিয়ে বলতে গেলে ভালোই যাচ্ছে।

আপনি নিজেকে নিজের আয়নায় কিভাবে দেখেন?
সেটা প্রতিদিনই দেখা হয়। আমার রুমে তিনটা আয়না আছে, একটা আয়নাতে আমি সাজগোজ করি। একটা আয়নাতে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে দেখি আর আরেকটা আয়নাতে আমি অভিনয়টা অনুশীলন করি, যে চরিত্রে অভিনয় করতে চাই সেই চরিত্রটা এখানে দেখি। নিজের আয়নায় নিজেকে একজন অভিনয় শিল্পী হিসেবে দেখি, যাকে মানুষ অনেকদিন মনে রাখবে।

যে আয়নার সামনে আমি অভিনয় অনুশীলন করি। কাজ শেষ করে যখন রাতে বাসায় আসি তখন ৫ মিনিটের জন্য হলেও সে আয়নার সামনে বসি। আমি আসলে সেখানে আমার সারাদিনের অর্জনটা খুঁজি। প্রাপ্যটা আসলে যেকোন কিছু হতে পারে যেমন, সারাদিনের মধ্যে হয়তো একটা ঘন্টা আমি বই পড়েছি বা একটা গাছ লাগিয়েছি, পথ শিশুদের সাথে সময় কাটিয়েছি কিংবা কাউকে সাহায্যে করতে পেরেছি ইত্যাদি।

ভবিষৎতে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?
মানুষের আসলে অনেক ইচ্ছা থাকে । বিত্তশালী হওয়ার কোন আমার নেই। তবে সবার ভালোবাসা পেয়ে প্রিয়মুখ হতে চাই। যেকোন ভালো চরিত্রে কাজ করতে চাই। মানুষের হৃদয়ে একটা পাকাপোক্ত আসন চাই।

আপনার নিজের স্বত্ত্বা কি?
অভিনয়টা আমার ভিতরে খুব কাজ করে । যখন আমি কোন চরিত্র নিয়ে কাজ করি তখন আমি সেই চরিত্রের মধ্যে মিশে যাই। একটা উদাহরণ দিতে পারি.. রাজরক্ত নামে একটি মঞ্চ নাটকে আমি দেবী চরিত্রে অভিনয় করি। এটি একটি এবসার্ড জনার এর নাটক । অনুশীলন শেষে রাতে বাসায় ফিরে যখন ঘুমাই, মা আমার পাশে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুমের মধ্যে মা’কে আমি থাপ্পর মেরে দেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে মা আমাকে বলেন, তোর পাশে এখন থেকে হেলমেট পরে ঘুমাতে হবে। কিন্তু আমিতো মাকে মারিনি। চরিত্রের এত গভীরে আমি চলে যাইযে ঘুমের মধ্যেও দেবী চরিত্রের অসুরকে বধ করেছি।

আপনার স্বপ্ন কি ?
একজন সফল ও গুণী অভিনেত্রী। একজন শিল্পি। এ জায়গায় আমার আগ্রহের কোন ঘাটতি নেই।

পড়াশোনার পাশাপাশি কি করতে ভালোবাসেন? শখ?
গার্ডেনিং করতে ভালোবাসি। বই পড়তে আমার ভীষণ ভালো লাগে ।

আপনার পরিবার সর্ম্পকে বলেন…
বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবি আর মা গৃহীনি। আমরা দুই বোন, দুই ভাই। আমি সবার বড় । সবার ছোট একটা ভাই। ছোট বোনের সাথে জামাকাপড় নিয়ে মারামারি লেগেই থাকে। ও আসলে খুব দুষ্টু। আমার শখের জামাকাপড় পরে আর নষ্ট করে। তাই আমার সাথে ওর বিশ্ব যুদ্ধ লেগেই থাকে। তবে সব ভাই বোনরা আমার খুব প্রিয়।

আপনার প্রিয় মানুষ কে?
আমার প্রিয় মানুষ আমার বাবা-মা।

কে আপনাকে সবচেয়ে বেশি আদর করে ?
বাবা-মা দু’জনেই আমাকে খুব আদর করেন। তবে মা একটু বেশি। মা আমাকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেন।

মজার ঘটনা…
আমার ছোটবেলা কেটেছে বগুড়াতে। কলোনি এলাকায়। ছোটবেলাটা অনেক মজার। ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ার সময়ের একটা মজার গল্প আছে। স্কৃল পালিয়ে বাড়ি আসার পথে কারো সবজি বাগান থেকে লতাসহ একটা চিচিংঙ্গা চুরি করি। লতা ধরে চিচিংঙ্গা ঘুরাতে ঘুরাতে বাড়ি ফিরছি। হঠাৎ কেন যেন হাতটা হালকা হয়ে গেল । তাকিয়ে দেখি আমার হাতে লতা লাগানো চিচিংঙ্গার অর্ধেক নাই। ভাবছি কই গেল কই গেল অর্ধেক চিচিংঙ্গা। কিচ্ছুক্ষণ পর আমার থেকে অনেক বড় ফর্সা একটা ছেলে এসে বলতেছে তুমি এটা ঘুরাইতেছো কেন? আমি বললাম আপনার তাতে সমস্যা কি? ছেলেটা বলল তুমি চিচিংঙ্গা দিয়ে আমার নাক ফাটিয়ে দিয়েছো। তাকিয়ে দেখি ছেলেটার নাক লাল হয়ে আছে (হাহাহা)। পরে ছেলেটা কি কাজে যেন আমাদের বাড়ি এসেছিলো আমিতো ভয়ে অস্থির। মাকে বললাম ও যা যা বলবে সব মিথ্যা। আমি ওর নাকে ব্যথা দেইনি। মাতো হেসেই কুল পায়নি। এটা আমার সারা জীবন মনে থাকবে।

স্কুলে পড়ার সময় এতো দুষ্টু ছিলাম যে, স্কুল থেকে বাড়ি আসার পথে মানুষের বাসার কলিংবেল চাপতে চাপতে আসতাম।

পড়াশোনা কোথায় করছেন?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করেছি, একই সাথে শান্ত মরিয়ম ইউনির্ভসিটি থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিং এর উপর অর্নাস শেষ করেছি। মাষ্টার্স শেষ করে পিএইচডি করার ইচ্ছা আছে।

কেন মডেলিং এ আসলেন?
ছোটবেলা থেকে অভিনেত্রী হওয়ার খুব শখ ছিল। ২০১৬ সালে Sunsilk Fashion Fiesta বিউটি কনটেস্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে টপ টেন বিজয়ী হই, সেই থেকে মডেলিং ও মিডিয়া জগতে আসা। এখানে কাজের মাধ্যমে সালাউদ্দিন লাভলু ও রিয়াজুল রিজু ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয় এবং উনাদের পরামর্শে প্রাচ্যনাট থিয়েটারের স্কুলিং এ যুক্ত হই এবং সেই থেকেই মঞ্চে কাজ করা।

সবচেয়ে ভালো কাজ কোনটি? অভিজ্ঞতা…
মঞ্চ নাটকে রাজরক্ত এর দেবী চরিত্রে।

বড় পর্দায় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন? আপনি তো শাকিব খানের সাথে কাজ করেছেন, উনার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা কিছু শেয়ার করেন?
বড় পর্দায় কাজের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত “আগুন” নামে একটি ছবিতে শাকিব খানের বোনের চরিত্রে সিনেমায় প্রথম অভিনয় করি যেখানে কাজের সময় আমার কো-আর্টিস্ট শাকিব ভাইয়ের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল খুব দুষ্টু মিষ্টি এবং খুনসুটিময় ভাইবোনের গল্প, অভিনয়ের বাইরে শাকিব ভাই খুবই আন্তরিক এবং চার্মিং, কো-আর্টিস্ট হিসেবে অনেক হেল্পফুল এছাড়াও আলি রাজ আঙ্কেল, সুব্রত দা, সুচরিতা ম্যাডাম এবং বদিউল আলম খোকন ভাইয়ের আন্তরিক সহযোগিতাও পাই এরপর রিয়াজুল রিজু পরিচালিত “ব্লাক লাইট” সিনেমায় নায়িকা চরিত্রে কাজের সুবাদে শাহেদ শরীফ, সাইফ চন্দন, আবু হেনা রনি এবং রিয়াজুল রিজু ভাইয়ের সাথে স্বতঃস্ফূর্ত কাজের অনুপ্রেরণা পাই এবং সুটিং এ অনেক এঞ্জয় করি।

আপনি কি কাঙ্খিত চরিত্রে অভিনয় করতে পেরেছেন?
আমি এখনও সেই চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাইনি। আর যা পেয়েছি সেটাতে আমি আমার সেরাটা দিতে পারিনি। চ্যালেঞ্জিং যেকোন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই যেন দর্শক আমাকে মনে রাখে। স্ট্রং কোন ক্যারেক্টারে অভিনয় করতে চাই, জীবন ঘনিষ্ট চরিত্র, যে চরিত্রে গল্প আছে। সেটা যে চরিত্রই হোক। যে চরিত্রটা দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নেবে।

আপনার কাজ কিন্তু আপনার কাছেই পছন্দ হয়নি, এমন কোন কাজ আছে?
আমি ছোট পর্দায় যেসব কাজ করেছি আমার কাছে মনে হয় কোনটিতেই নিজের সেরাটা দেয়ার সুযোগ হয়নি।

পছন্দ
রান্নাবান্না করতে পছন্দ করি। ডিজাইন করতে খুব ভালো লাগে। সৃজনশীলকাজ করাটা আমার খুব পছন্দের। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করতে ভাল লাগে।

প্রিয় লেখক…
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

প্রিয় বই…
উপন্যাস দত্তা

পছন্দের নায়ক…
অর্নিবাণ ভট্টাচার্য, প্রসেনজিৎ চ্যার্টাজি, টম ক্রুজ

পছন্দের নায়িকা
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

প্রিয় পরিচালক
সৃজিত মুখার্জী

প্রিয় চরিত্র
‘প্রাক্তন’ ছবিতে প্রসেনজিৎ চ্যার্টাজির উজান চরিত্র এবং ‘বির্সজন’ ছবিতে জয়া আহসানের বিজয়া চরিত্র।

পছন্দের গান...
রবীন্দ্র সংগীত

প্রিয় খাবার…
আমি ভোজন রসিক, সব খাবারই পছন্দ। তবে গরুর কালো ভূনা, কাচ্চি বিরিয়ানী একটু বেশিই ভালো লাগে।

রোল মডেল…
আমার মা আমার রোল মডেল। আমি আমার মায়ের মতো হতে চাই। তবে এর বাইরে জয়া আহসান আমার আইকনিক স্টার।

কিসে আনন্দ পান?
আমার মা যখন আমার কোন কাজে খুশি হন, মায়ের সেই হাসিমুখই আমার সব আনন্দের উৎস।

কেমন বাংলাদেশ চান?
সুখি, সমৃদ্ধ ও বৃদ্ধাশ্রম মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই।

একদিনের জন্য ক্ষমতা পেলে কি করবেন?
যেসকল পিতা-মাতা বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন তাদেরকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিব। এমন একটা আইন করব যেন কোন পিতা-মাতাকেই আর বৃদ্ধাশ্রমে যেতে না হয়। সন্তানদের জন্য এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করবো যাতে তারা মা-বাবাকে আর বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠায়। ভালবাসতে শিখে।

তরুনদের উদ্দ্যেশে কিছু বলুন…
তরুণরা যেন বেশি করে বই পড়ে। ফেসবুক আসক্তি থেকে যেন বেরিয়ে আসে । কারণ ফেসবুকে তাদের অহেতুক অনেক সময় নষ্ট হয়। তারা চাইলে বই পড়তে পারে। অনলাইনে এখন এমন অনেক প্লাটর্ফম আছে যেখানে বই পড়া যায়। যেমন সেইবই নামে একটি এ্যপস আছে যেখানে ফ্রি বই পড়া যায়।

ঈদে কার কার জন্য শপিং করেছেন?
করোনার কারণে তেমন একটা শপিং করতে পারিনি। বাবার জন্য একটা পাঞ্জাবী আর মায়ের জন্য শাড়ি নিয়েছি।

সামাজিক কোন দায়ভার আছে কিনা?
অবশ্যই। আমি মানুষের সেবা করতে চাই। ছিন্নমূল মানুষদের নিয়ে কাজ করতে চাই। পথ শিশুদের নিয়ে আমি কাজ করি। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে পথশিশুদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করতে চাই।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর