শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home DM স্পেশাল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে ‘প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ হবে ‘প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’

বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ডের মতো শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত করার ইচ্ছা ছিল বঙ্গবন্ধুর

১৯৭৫ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে তাদের আস্থাপত্র উপস্থাপন করেন।

শেখ সাদির লেখা “বঙ্গবন্ধু অভিধান”-এর মতে, সুইস দূতের সঙ্গে কথা বলার সময় জাতির পিতা বাংলাদেশকে “প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড”-এ পরিণত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

তবে এই প্রথম বাংলাদেশকে সুইজারল্যান্ডের মতো শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি বঙ্গবন্ধু। এর আগেও, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে একই মন্তব্য করেছিলেন।

পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পরাজয়ের পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমান শের-ই-বাংলা নগর এলাকার একটি নির্মাণাধীন জাতীয় পরিষদ ভবনে নিয়ে যায়।

এরপর তাকে রাতের জন্য সেনানিবাসে অবস্থিত আদমজী কলেজে স্থানান্তরিত করা হয় এবং পরে ফ্ল্যাগস্টাফ হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিন দিন পর, তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালি কারাগারের নির্জন কক্ষে রাখা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধুর কারাগার জীবন সম্পর্কে সাংবাদিক আল খতিব তার “হু কিল্‌ড মুজিব” বইয়ে বলেছেন, “নয় মাস ধরে মুজিব কারাগারের নিন্দিত কক্ষে বন্দি ছিলেন। এ সময় তার ২০ কেজি ওজন কমে গিয়েছিল। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে রাওয়ালপিন্ডিতে পৌঁছালে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।”

স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরার পর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তার প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে হাজির হন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমরা আমাদের দেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ডে রূপান্তর করতে চাই।”

আল খতিব তার বইয়ে লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধু সম্ভবত বলতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ডের মতো একটি উন্নত এবং শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত হবে।”

পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ আগস্ট, তৎকালীন প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম চৌধুরী এবং বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী সুইস রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার পর এরা দু’জন খোন্দকার মোশতাক আহমদের মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর