শনিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২১

Close

Home ফিচার বাজেট: কি, কেন এবং কত প্রকার?

বাজেট: কি, কেন এবং কত প্রকার?

‘বাজেট’ কথাটির সাথে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু বাজেট কি, বা এটি কি কাজে লাগে? আমরা বেশিরভাগই হয়তো তা জানি না। এক কথায় বললে, বাজেট হচ্ছে একটি দেশের সম্ভাব্য সকল আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব- নিকাশের বিবরণী একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য সরকারের ব্যয় ও রাজস্বসমূহের একটি পূর্বাভাষও বলা যায় একে।

বাংলাদেশ সরকারের একটি বাজেটের সময়কাল হচ্ছে একটি অর্থবছর, যা একটি বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বৎসরের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হয়। মূলত সরকারের এ নির্দিষ্ট সময়ের দেশের আর্থিক পরিকল্পনার সুষ্ঠু প্রতিফলন থাকে বাজেটে। বাংলাদেশের সংবিধানে বাজেট শব্দটি ব্যবহারের পরিবর্তে সমরূপ শব্দ ‘বার্ষিক আর্থিক বিবরণী’ ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্যক্তি জীবনে একজন মানুষকেও কিন্তু আয় ও ব্যয়ের হিসাব রাখতে হয়। তবে ব্যক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের বাজেটের কিছু পার্থক্য আছে। ব্যক্তি আগে আয় করেন, তারপর ব্যয়ের খাতগুলো নির্ধারণ করেন। কিন্তু অন্যদিকে রাষ্ট্র করে ঠিক এর উল্টো। রাষ্ট্র আগে ব্যয়ের খাতগুলো ঠিক করে। এরপর চিন্তা করে কোথায় থেকে আসবে সে অর্থ। সরকারকে একটি দেশ চালাতে হয়, সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়, আবার নাগরিকদের উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে হয়। অর্থাৎ ব্যয় বুঝে আয়। মানে সরকার আয় করে খরচ বুঝে, আর ব্যক্তি ব্যয় করেন আয় বুঝে।

বাজেটে সরকারের রাজস্ব আয় ও রাজস্ব ব্যয়ের হিসাব প্রতিফলিত হয়, এটাকে রাজস্ব বাজেট বলা হয়। আয় ও ব্যয়ের ধরনের ভিত্তিতে এ রাজস্ব বাজেটের প্রধান দুটি অংশ থাকে।

রাজস্ব ব্যয়
রাজস্ব ব্যয়কে অনুন্নয়ন বাজেটও বলা হয়। রাজস্ব ব্যয় হচ্ছে সরকার পরিচালনার যাবতীয় খরচ। অনুন্নয়ন বাজেট বা রাজস্ব ব্যয় মোটা দাগে তিনটি। যেমন দেশরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসন চালানোর খরচ।

নানা ধরনের সামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। আবার কৃষি ও জ্বালানির মতো খাতে সরকার ভর্তুকি, সুদ পরিশোধ এই সবই রাজস্ব ব্যয়। তবে সবচেয়ে বড় খরচের খাত হচ্ছে বেতন-ভাতা।

রাজস্ব আয়
ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের প্রয়োজন আয়। রাষ্ট্রের কতগুলো আয়ের উৎস আছে। এগুলোকেও আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: প্রত্যক্ষ কর, পরোক্ষ কর এবং করবহির্ভূত আয়। প্রত্যক্ষ করের মধ্যে আছে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর কর অর্থাৎ করপোরেট কর, দান কর, উত্তরাধিকার কর, যানবাহন কর, মাদক শুল্ক, ভূমি রাজস্ব ইত্যাদি। আর পরোক্ষ কর হচ্ছে আমদানি কর, আবগারি শুল্ক, ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক ইত্যাদি।

কর ছাড়া রাষ্ট্রের আরও কিছু আয় আছে। যেমন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ, সুদ, সাধারণ প্রশাসন থেকে আয়, ডাক-তার-টেলিফোন থেকে আয়, পরিবহন আয়, জরিমানা ও দণ্ড থেকে আয়, ভাড়া, ইজারা, টোল ও লেভি থেকে আয় ইত্যাদি।

আরেকটি আছে উন্নয়ন বাজেট। যে বাজেটে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের হিসাব দেখানো হয় তাকে মূলধনী বাজেট বা উন্নয়ন বাজেট বলা হয়।

উন্নয়ন বাজেট
সরকারের যে অর্থ আয় হয় তা দিয়ে দেশ পরিচালনায় যত ধরনের ব্যয় আছে তা পূরণ করে বাকি অর্থ দিয়ে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা অর্থই উন্নয়ন বাজেট। এই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প (রাস্তা নির্মাণ, সেতু নির্মাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল তৈরিসহ নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ) বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রশ্ন হতে পারে সব ক্ষেত্রে এই আয়-ব্যয় কি সমান হবে? না হয় না। সকারের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না হলে ঘটে বিপত্তি। সেক্ষেত্রে ব্যক্তি যেমন ধার করে তেমনি রাষ্ট্র দেশ-বিদেশ থেকে অর্থ ধার করতে পারে। ধার করলে পরিশোধও করতে হয়। তবে এ জন্য রাষ্ট্র সাধারণত দেউলিয়া হয় না। রাষ্ট্র এই সুযোগটি নিজেই তৈরি করে নেয়। যদিও এর ফলে আমাদের দায় ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
আয় ও ব্যয় সমান কি না, সেই প্রশ্নেই রাষ্ট্রের বাজেট দুই রকমের হয়ে থাকে।

যেমন:

সুষম বাজেট
সরকারের মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান হলে সেটি হচ্ছে সুষম বাজেট। মানে সরকারের মোট ব্যয় পরিকল্পনার সমানই হচ্ছে সম্ভাব্য আয়।

অসম বাজেট
যেখানে আয় আর ব্যয় সমান হয় না। অসম বাজেট আবার দুই রকমের হতে পারে।

যেমন: উদ্বৃত্ত বাজেট ও ঘাটতি বাজেট।

ব্যয়ের তুলনায় আয় যদি বেশি হলে সেটি উদ্বৃত্ত বাজেট। ঘাটতি বাজেট হচ্ছে ঠিক উল্টোটা। এখানে ব্যয় বেশি, আয় কম।

সাধারণত উন্নত দেশগুলো সুষম বাজেট করে থাকে। কিন্তু আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ এর পক্ষে প্রতিবছরই সুষম বাজেট করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।

যদিও সেক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে কিছুটা ঘাটতি থাকা ভালো। এতে অব্যবহৃত সম্পদের ব্যবহার বাড়ে, ঘাটতি পূরণের চাপ থাকে। তাতে অর্থনীতিতে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ঘাটতি বেশি থাকাটা আবার ভালো নয়। সাধারণত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতিকে মেনে নেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর