Home এক্সক্লুসিভ বিচার বিভাগের অভিভাবক থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি

বিচার বিভাগের অভিভাবক থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি

বিচার বিভাগের অভিভাবক থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি
সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা

ছিলেন বিচার বিভাগের অভিভাবক, সেখান থেকে পতন হয়ে এখন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) যেমন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকে আসা প্রথম বিচারপতি, তেমনি এখন পর্যন্ত ২২ জন প্রধান বিচারপতির মধ্যে একমাত্র দণ্ডিত ব্যক্তিও।

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। জন্ম ১৯৫১ সালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে। ১৯৭৪ সালে সিলেট বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এর ৪ বছর পর হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত হন ১৯৯০ সালে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ১৯৯৯ সালে ২৪ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর স্থায়ী হয়ে ২০০৯ সালে ১৬ জুলাই হন আপিল বিভাগের বিচারপতি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় দেয়া আপিল বেঞ্চেরও সদস্য ছিলেন এসকে সিনহা। মুসলিম প্রধান দেশে একমাত্র অমুসলিম এবং আদিবাসী বিচারক হিসেবে দেশের বিচারাঙ্গনের শীর্ষ পদে আসীন হন তিনি। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। দায়িত্ব নিয়েই বারবার সংবাদের শিরোনাম হতেন এ বিচারপতি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে ছুটি নেন এসকে সিনহা। এরপর অনেকটা তোপের মুখে বিদেশ চলে যান। মেয়াদ শেষের ৮১ দিন আগে ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর বিদেশ থেকেই পাঠান পদত্যাগপত্র।

এরপর সুপ্রিম কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়-দুর্নীতি, নৈতিক স্খখলসহ তার বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগের কথা। শেষ হয় এসকে সিনহা অধ্যায়। যদিও বিদেশ থেকে নিজের বই ‘A BROKEN DREAM’ এ অনেক কিছুর ব্যাখা দিতে চেয়েছিলেন তিনি।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, এসকে সিনহার দেয়া রায়গুলো কি আইনি বৈধতা হারাবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহসানুল করিম জানান, এটা বাংলাদেশ ইতিহাসে একটা কলঙ্কজনক অধ্যায়। এর আগে প্রধান বিচারপতি তো দূরের কথা, কোনও বিচারপতি এ ধরনের বিচারের সম্মুখীন হননি।

এদিকে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, এ রায়ে বিচারপতি থাকাকালীন এসকে সিনহার দেয়া আপিল বিভাগের কোনও রায়ে অসুবিধা হবে না। আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলছেন, কোনও রায়ে শপথ ভঙ্গ হয়ে থাকলেও সেটি পরে দেখা হবে।

বর্তমানে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন এসকে সিনহা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here