শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home অন্যান্য চাকরির বাজার বিসিএস এ সফল হবেন কিভাবে?

বিসিএস এ সফল হবেন কিভাবে?

সাফল্য সিরিজ ১: জানুন বিসিএসে সফল হওয়া কর্মকর্তাদের কাছ থেকে

১৫ থেকে ২৭ বিসিএস এ সফল দেশে বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালন করছেন এমন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তাদের প্রদত্ত মতামত ও টিপস এর উপর ভিত্তি করে ‘দ্য ডেলটা মেইল’ বিসিএস পরীক্ষায় কিভাবে সফল হতে হবে তার উপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন ‘সাফল্য সিরিজ’ এর প্রথম পর্ব প্রকাশ করলো আজ। বাকি পর্ব গুলো পড়তে চোখ রাখুন ‘দ্য ডেলটা মেইল’ এর ‘চাকরির বাজার’ বিভাগে।

চলুন তাহলে চলুন শুরু করা যাক…

সফলতার অব্যর্থ সূত্র

যেকোন সফলতার জন্য তিনটি পূর্বশর্ত নিয়ে একটি সূত্র রয়েছে। এ সূত্র অনুসরণকারী যে কারোই জীবনে আসবে সব ধরণের সফলতা সেটা বিসিএস হতে পারে, হতে পারে কাঙ্খিত অন্য কিছু। এই তিন পূর্বশর্তের প্রথমটি হলো হলো ফোকাস বা মাইন্ডফুলনেস।

রেজর শারফ্ বা রেজরের মতো ধারালো বা তীক্ষ্ণ মনোসংযোগ। শিকারীর চোখ। ঈগল যেমন অনেক উপর থেকে শিকারের উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তার পর ছো মেরে শিকার নিয়ে আবার উড়ে যায়। তেমনি একজন প্রতিযোগীকে তার লক্ষ্যে তীক্ষ্ণ ও সূচারু দৃষ্টি নিবন্ধ করতে হবে। তাহলে সফলতা ধরা দেবেই। লক্ষ্যবিচ্যুত মানুষ কখনোই সফল হয়না। সেটা বিসিএস হোক বা ব্যবসা।

১৭ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা জানান মানসিক প্রস্তুতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিসিএস হবে কি হবেনা তা নিয়ে চিন্তা না করে একনিষ্ঠভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরী। পৃথিবীটা অনেক বড়। বিসিএস না হলে কিছু যায় আসেনা। জীবনে অনেক কিছু করার আছে।

এটাকে তিনি বললেন এবানডেন্ট মাইন্ডসেট বা প্রাচুর্য মানসিকতা। এটি হলো দ্বিতীয় পূর্বশর্ত যখন আপনি ভাববেন জীবনে অনেক কিছু করা যায় তখন মন থেকে থেকে সকল স্ট্রেস বা মানসিক চাপ দূর হয়ে যায়। তখন আপনি অনেক কনফিডেন্ট হয়ে যাবেন। সফলতার জন্য যা জরুরী।

তৃতীয়টি হলো সুঅভ্যাস। যে কেউ একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন ভাল কাজ বার বার নিয়মিত করা। এজন্য আপনাকে একটি রুটিন তৈরী করতে হবে। বিসিএস প্রস্ততির জন্য কখন পত্রিকা পড়বেন, কখন অংক করবেন, কখন বই পড়বেন, কখন হাটবেন, বা হালকা ব্যয়াম করবেন, কখন বা কয়টা থেকে কয়টা কি করবেন তা লিখে অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করতে হবে।

কেউ যদি টানা তিনমাস কোন রুটিন মাফিক পড়াশোনা করতে থাকে তাহলে তা তার অভ্যাসে পরিণত হবে। তার মন পরিবর্তন হবে। তার ব্রেন ফাংশন ইমপ্রুভ করবে।

প্রস্ততির প্রথম ধাপ

একটি নোটবই ও কলম নিয়ে বসুন। বিসিএস যখন দিবেন তখন ভাল ভাবেই দিন। প্রথম পয়েন্ট অর্থাৎ সফলতার অব্যর্থ সূত্র মনে রাখুন। কোন কোন বিষয়ে আপনি অপেক্ষাকৃত দুর্বল তার তালিকা করুন। যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্বল সে বিষয়ে প্রথম প্রস্ততি শুরু করুন। এতে আপনার মানসিক শক্তি ও আত্নবিশ্বাস বাড়বে।

যে বিষয়ে আপনি দূর্বল তার সিলেবাস নিয়ে বসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একবার প্রস্ততি নিন। এভাবে আপনি যে কয়টি বিষয়ে অপেক্ষাকৃত দূর্বল সে বিষয় সমূহের প্রস্ততি নিতে থাকুন। তারপর সব বিষয় পড়তে থাকুন রুটিন অনুসারে।

চোখ কান খোলা রাখুন: মুখস্ত করা বন্ধ করুন

আপনার চারপাশে কি হচ্ছে তা খেয়াল করুন । চোখ কান খোলা রাখুন। দেশে বিদেশে কোথায় কি হচ্ছে সেটা ভালো করে জানুন। অন্তত যেকোন দুইটি দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত পড়ুন। একটি বাংলা ও অপরটি ইংরেজি। অনলাইন পত্রিকাতো এখন হাতের নাগালের মধ্যেই আছে । বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টিভি এর ডকুমেন্টারি গুলো দেখুন। নোট রাখুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ঘটনাসমূহ। উপসম্পাদকীয় পড়ুন। বিদেশি ইংরেজী পত্রিকা পড়ুন।

শুধুমাত্র পত্রিকা পড়ার মাধ্যমেই আপনি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারেন। ইংরেজী জ্ঞান বাড়ান। যেমন ধরুন আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতা দখল করেছে। কেন আফগান সরকারী বাহিনী তালেবানের কাছে পরাজিত হলো? তালেবানের শক্তি কোথায়? অর্থ ও অস্ত্রের যোগান আসে কিভাবে। কারা তাদের সাহায্য করেছে।

আফগান সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ইত্যাদি। মূল বিষয় হলো কোন একটি বিষয়ের আদ্যপান্ত জানুন। এটি আপনাকে ঐ বিষয়ে লিখতে বা বলতে সহায়তা করবে। আপনার লখা বা বিশ্লেষণ যদি অন্যদের চেয়ে আলাদা হয় তাহলে আপনি সহজেই পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন। পাবেন বেশী নম্বর। খুব সহজেই পাশ করবেন প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা।

যারা ভুটানের রাজধানির নাম মুখস্ত করেন তাদের আর যাই হোক বিসিএস হবেনা। মুখস্ত করার আসলে কোন প্রয়োজনই নেই। যারা মুখস্ত নির্ভর পড়াশোনা করে বা প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় তারা বেশিদূর যেতে পারেনা।

তুচ্ছ ও মুখরোচক খবর এড়িয়ে চলুন। পরীমনি বা শাহেদের কী হলো তাতে আপনার কিছু যায় আসেনা। বিষয়ের গুরুত্ব বুঝে তাতে মনোনিবেশ করুন। ভেরিয়েশন এর জন্য গল্প ও প্রবন্ধ পড়ুন। প্রবন্ধ একদিকে যেমন ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন করবে তেমনি বিভিন্ন বিষয়ে গভীর দৃষ্টিভঙ্গি উন্নয়নে সহায়তা করবে। হাতের কাছে একটি রিডার্স ডাইজেস্ট রাখুন। যদি বোর ফিল করেন তাহলে সেটা থেকে কিছু একটা পড়ুন।

যদি আপনার প্রথম পছন্দ ফরেন সার্ভিস হয় তাহলে কোন একটি ইংরেজি চ্যানেল দেখুন। ইংরেজি ডকুমেন্টরি দেখুন। সেটা হতে পারে বিবিসি, আলজাজিরা, ডিডাব্লিউ ইত্যাদি। ভালো ইংরেজি মুভি দেখতে পারেন। ইংরেজিতে কথা বলা অনুশীলন করুন। বন্ধু বান্ধব থাকলে ভালো না হলে একাই অনুশীলন করুন।

কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই

মনে রাখবেন বিসিএস এ সফল হবার জন্য কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। একটি বিষয়ের উপর বিশেষজ্ঞ হলে আপনার বিসিএস করার প্রয়োজন নেই। সে বিষয়ে আপনি পিএইচডি করে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সহজেই ভাল চাকুরি করতে পারেন। বা পিএইচডি না করেও ভাল চাকুরি বা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।

যেমন একজন ভালো প্রোগ্রামার গুগলে চাকুরি পেতে পারে সহজেই। তাই বিসিএস এ সফল হবার জন্য আপনাকে অনেক বিষয় পড়তে হবে জানতে হবে। বিশেষ করে বিসিএস সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত বিষয় সমূহ।

বিখ্যাত সব বই পড়ে ফেলুন

বিখ্যাত লেখকদের বইয়ের একটি তালিকা তৈরি করে তা পড়া শুরু করে দিন। এখন অনলাইনে অনেক বই পাওয়া যায়। লেখদের বায়োগ্রাফি বা জীবনী পড়ে নিন। এতে বইয়ের নাম, লেখকের নাম ইত্যাদি মুখস্ত করার প্রয়োজন পড়বেনা।

বেস্ট সেলার বই সমূহ পড়ুন। যেমন গত কয়েক বছরে সবচেয়ে আলোচিত বই স্যাপিয়েন্স। বইটি পড়লে আপনি মানবজাতির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন, জ্ঞানের গভীরতাও বাড়বে। একবার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে আপনাকে কেউ আর থামাতে পারবেনা।

নিজের দেশ সম্পর্কে ভালভাবে জানুন

শিল্প সাহিত্য সর্ম্পকে জানুন বুঝুন। দেশীয় সংস্কৃতি নিজের মধ্যে লালনের চেষ্টা করুন।

নিজের দেশ সর্ম্পকে ভালো করে জানুন। দেশের সমস্যা সম্ভাবনা এইগুলো নিয়ে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করুন। নিজের মধ্যে বিশ্লেষণধর্মী মনোভাব তৈরি করুন। মনে রাখবেন গরুর রচনা আপনাকে বেশিদূর নিতে পারবেনা। যেমন ধরুণ বাংলাদেশের সমস্যা বললে সবাই জনসংখ্যার কথা আগে বলবে। এটা হচ্ছে সাধারণ ধারণা।

এ ধারণালব্ধ জ্ঞান দিয়ে যা লিখিত হয় তাই গরুর রচনা। এর থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত সমস্যা জানুন। বাংলাদেশে বেকারত্ব কেন বাড়ছে। দক্ষতার অভাব কেন এত প্রকট। সংকট টা কোথায়।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কেন বিশ্ব র‌্যাংকিং এ নেই। ইনোভেশন ইনডেক্স এ কেন আমরা পিছিয়ে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টগুলো ডাউনলোড করে পড়ুন। পরের পর্বে আমরা রিপোর্ট গুলোর একটা সম্ভাব্য তালিকা দিয়ে দিব।

কেন দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ? সেটার কারণ জানার চেষ্টা করুন। বাংলাদেশকে নিয়ে জাতিসংঘের ঘোষণা পত্রটি পড়ুন। জাতিসংঘে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি শুনুন।

একটা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিভাবে কাজ করে সেটার ইনডেপথ রির্পোট পড়ুন। এক্সপোর্ট কিভাবে কাজ করে সেটা জানুন। দেশের উন্নয়নে রেমিটেন্সের প্রভাব কি? কারা কিভাবে রেমিট্যান্স পাঠায়, কোন কোন দেশ থেকে বেশি র‌্যামিট্যান্স আসে তা জানুন।

কোন কোন সূচকে বাংলাদেশ উন্নতি করছে, কিভাবে আরো উন্নতি করতে পারে? এসব বিষয়ের উপর নোট রাখুন। কিছুদিন পর পর নিজের নোট রিভাইজ করুন।

স্ট্যান্ড এগেইন্স্ট দ্যা ক্রাউড

যেকোন বিষয়ের উপর একটি প্রবন্ধ লিখুন। ভিন্ন ভাবে আপনার বিশ্লেষণ তুরে ধরুন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লিখতে পারেন। একটু ভিন্নভাবে সবকিছু বোঝার এবং উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন যারা জনশ্রোতে মিশে যায় তারা কেউ নিজের মতো করে দাঁড়াতে পারেনা।

বিসিএস সহ সব প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় যারা প্রথম হয় তারা সবাই সাধারণের চেয়ে আলাদা। জনশ্রোতে তারা কখনো মেশেনা। তাই আপনাকে আপনার নিজের একটা অবস্থান তৈরী করতে হবে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে।

গাইড বই কিনুন, ফেলে রাখুন

একটি বড় ভুল হলো বিসিএস পরীক্ষা মানে গাইড কিনে সেটা মুখস্ত করতে শুরু করা। দেখে শুনে ভাল গাইডবই পেলে তা কিনুন। দেখুন কি আছে এতে। প্রশ্নের ধরন, সিলেবাস ইত্যাদি। তার পর তা ফেলে রাখুন।

উপরে উল্লেখিত নিয়ম মতো প্রস্তুতি নিন। গাইড আপনাকে জনশ্রোতে মিশিয়ে দিবে। কাঙ্খিত যোগ্যতা অর্জনে বাধা হয়ে দাড়াবে।

বিসিএস এ যারা কৃর্তকার্য হয় তাদের নানামুখি জ্ঞান অর্জন করতে হয়। রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন সব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আবুল মনসুর আহমদের ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ বইটি পড়তে পারেন।

আপনার জ্ঞানের গভীরতা যত বাড়বে ততই প্রতিযোগীতায় সফলতা আপনার জন্য সহজ হবে। এক বিসিএস প্রস্তুতিই আপনার জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে। বদলে দিতে পারে আপনার ভবিষ্যৎ।

(চলবে)

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর