বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৬, ২০২২

Close

Home বিশেষ খবর ভালোবাসার রূপে আরও একবার বসন্তের আগমন

ভালোবাসার রূপে আরও একবার বসন্তের আগমন

বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা, কারা যে ডাকিল পিছে, বসন্ত এসে গেছে। মধুর অমৃতবাণী, বেলা গেল সহজেই, মরমে উঠিল বাজি, বসন্ত এসে গেছে—এমন সুরের অনুরণনে ফাগুনের প্রথম দিন সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে শুরু হয়েছে নানা আয়োজন।

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে পলাশ, শিমুলসহ বর্ণিল ফুলে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। সেই রঙের ছোঁয়া যেন লেগেছে সবার মনে। হলুদ, বাসন্তী রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি এবং রঙিন ফুলে নিজেকে সাজিয়ে নানা বয়সের মানুষ হাজির হয়েছেন উদ্যানের মুক্তমঞ্চে। গানের তালে তালে চলছে নৃত্য পরিবেশনা। সেইসাথে আবৃত্তি, লোকগান মাতিয়ে রেখেছে সবাইকে। এ যেন এক প্রাণের উৎসব।

করোনা বিধিনিষেধের কারণে প্রতিবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় বসন্ত বরণ না হলেও দীর্ঘ দুই বছর পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন্দ্রীয়ভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং পহেলা ফাগুন মিলিয়ে উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ পুরো ক্যাম্পাস বর্ণিল রঙে সেজেছে আজ। বসন্তকে বরণ করতে শাহবাগের ফুলের দোকান, বিপণিবিতানে লাল-হলুদের আভা। চারিদিকে হলুদের মেলা, তরুণ-তরুণীদের দেখা যাচ্ছে হলুদ, কমলা ও বাসন্তী রঙের পোশাকে। টিএসসি, হাকিম চত্বর, লাইব্রেরি, অপরাজেয় বাংলা, বিজনেস ফ্যাকাল্টি, শ্যাডো, কার্জন হল, এনেক্স ভবন, শহীদ মিনারসহ পুরো এলাকায় বাসন্তী সাজ।

নারীরা নিজেদের বসন্তের সাজে সাজাতে খোপায়-গলায়-মাথায় পরেছে গাঁদা ফুলের মালা। হাতে রেশমি চুড়ি আর পরনে বাসন্তী রঙ্গের শাড়ি। পুরুষদের পরনেও শোভা পাচ্ছে রঙিন পাঞ্জাবি, ফতুয়া। সব মিলিয়ে প্রকৃতি আর মানুষ বসন্তের আমেজে মিলেমিশে একাকার।

অন্যদিকে প্রকৃতি একান্তভাবে বরণ করে নিচ্ছে ঋতুরাজকে। গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীর গতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন দিনের। শীতে খোলসে ঢুকে থাকা বনবনানী অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব। আর এ সাজে মন রাঙিয়ে গেয়ে উঠবে মন, ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত…।

‘এসো মিলি প্রাণের উৎসব’ স্লোগানে সুরের মূর্ছনার আবেশ ছড়িয়ে পড়ে পুরো উদ্যান।

বসন্ত উৎসবের ইতিহাস :

মুঘল সম্রাট আকবর কর্তৃক ১৫৮৫ সালে বাংলা সালে ১৪টি উৎসব প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বসন্ত বরণ উৎসবের জন্ম। ষাটের দশকে ফাল্গুনের প্রথম ছুটির দিনে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল ছায়ানট।

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বসন্ত পালিত হয় ১৯৯৪ সালে। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদের হাত ধরে ১৪০১ বঙ্গাব্দের পহেলা ফাগুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারকলার বকুলতলায় উদযাপন শুরু হয় এই উৎসবের। এরপর থেকে প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে এই উৎসব।

 

ডেল্টামেইল/জেএ

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর