Home DM স্পেশাল জগন্নাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত, দায় কার?

জগন্নাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত, দায় কার?

জগন্নাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত, দায় কার?

মেয়েদের কি শিক্ষা গ্রহণের পূর্ন অধিকার নেই? মেয়েরা কি স্বপ্ন দেখবে না? মেয়েরা কি ডাক্তার, নার্স, আদর্শ শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, গবেষক হওয়ার স্বপ্ন দেখবে না? একুশ শতকে এসে যদি এই কথা বলতে হয় তাহলে বুঝতে হবে আমরা কতটা পিছিয়ে আছি। শিক্ষা যেখানে মৌলিক অধিকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে শিক্ষার সূতিকাগার, সেখানে জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা মুখথুবড়ে পড়ে আছে। নেই শিক্ষক, নেই লোকবল, দিশেহারা শিক্ষার্থী ও অবিভাবক।

দুই বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সকল প্রস্তুতি নিয়েই কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়। কিন্তু এখন যখন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে, স্কুলে এসে ক্লাস করবে তখন স্কুলে নেই শিক্ষক। শিক্ষকের সংকট, বদলি করা হয়েছে একজনকে আরেকজন গেছেন সরকারি ট্রেনিং নিতে।

যেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষকের সংকট সেখানে একজন শিক্ষককে বদলি ও আরেকজন শিক্ষককে সরকারি ট্রেনিংয়ে পাঠানো হয় কেন?

এখানে কার ব্যর্থতা, এই বিষয়ে দায়ী কে? শিক্ষা প্রশাসন, রাষ্ট্র এই দায় কি এড়াতে পারে?

এমনই পরিস্থিতি ঘটেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। কেন এমন হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার অনুসন্ধান করেছে ‘দ্য ডেলটা মেইল’।

একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সকল বিষয়ের পাঠদান। তিনি আবার পালন করছেন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও। সামলাচ্ছেন অফিসের সব কাজ। আবার তিনিই পালন করছেন বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় বর্তমানে ছাত্রীদের পাঠদান বির্পযস্ত ও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

স্কুলেটিতে ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৯ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১ জন। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও নাইট গার্ডের দায়িত্বও পালন করছেন। বর্তমানে স্কুলের দৈন্যদশা করুন আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় আজ প্রায় ১ মাস যাবৎ ক্লাসের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে একাধিকবার আলাপ করলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের নির্বীকার ভূমিকা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্য ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্কুলটিতে দীর্ঘ এক যুগ ধরেই শিক্ষক সংকট লেগেই আছে, এমনটাই জানান বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত শেখর রায়।

গত মাসে সহকারী শিক্ষক সালাহ উদ্দিন ও মোবারক হোসেন ঢাকাতে ১ বছরের ট্রেনিংয়ে চলে গেলে এক মাত্র শিক্ষক জয়ন্ত শেখর রায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিদ্যালয়েটির প্রধান শিক্ষক নেই ২০১৮ সাল থেকে। সহকারী প্রধান শিক্ষক না থাকায় তার কক্ষটিও দীর্ঘদিন ধরেই তালাবদ্ধ। অবস্থা এমন যে তালায়ও ধরে গেছে মরিচা। ভবন আর শ্রেণিকক্ষ সবই আছে, কিন্তু খোলা হয় না অধিকাংশ কক্ষের তালা। শিক্ষার্থীরা ক্লাস পাচ্ছে দিনে ২টির স্থলে একটি করে। এতে নিজেও চিন্তিত শিক্ষক জয়ন্ত শেখর রায়। বললেন, বিবেকবোধ থেকেই যতটা পারছেন করে যাচ্ছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত শেখর রায় বলেন, বিদ্যালয়টির অবস্থা খুবই করুন। শিক্ষক না থাকায় ছাত্রীদের পাঠদান করা যাচ্ছে না। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকতাদের জানালেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

জগন্নাথপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি মি. সানোয়ার হাসান সুনু বলেন, এ ব্যাপারে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষক দেওয়া হয়নি। এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। আমার তিনটি মেয়ে এই স্কুলে পড়াশোনা করে কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে আমার মেয়েরা ভালো করে পড়াশোনা করতে পারছে না। আগামী সপ্তাহ ১৫ দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষামন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলীপি পেশ ও মানবন্ধনের আয়োজন করব।

এ ব্যাপারে আলাপ হয় মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক মি. জাহাঙ্গীর কবীর আহমেদ আমাদের জানান, সারাদেশে শিক্ষকের একটি বড় সংকেট রয়েছে। শুধু সিলেটেই ৩০ শতাংশ শূন্যপদ রয়েছে। নতুন ২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াদিন রয়েছে এই শিক্ষকরা নিয়োগ ফেলে ওই স্কুলটিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষকের পোষ্টিং দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আশাকরি এক মাসের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মি. সাজেদুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে আলাপ হলে তিনি জানান, আমি মাত্র দুই মাস হয় এখানে এসেছি। বিষয়টি নিয়ে মৌখিকভাবে আমি অনেকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের জানিয়েছি, এবার লিখিত আকারে এ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। স্থানীয় এমপি পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের সাথে আলাপ করেছি, তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। আশা করছি শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।

আমরা এই প্রতিবেদন তৈরি করার সময় অনেকের সাথেই কথা বলি এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক মি. জাহাঙ্গীর কবীর আহমেদ আমাদের জানান, ‘দ্য ডেলটা মেইল’র অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার (১০ নভেম্বর) একজন খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি, এবং বিজ্ঞপ্তি আকারে দুই এক দিনে ভিতরে একজন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

শুধু একজন শিক্ষক নিয়োগ দিলেই কি এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? যেখানে ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৯জন শিক্ষক থাকার কথা।

শূণ্যপদে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন তৈরি করবে ‘দ্য ডেলটা মেইল’। চোখ রাখুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here