শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home মতামত সম্পাদকীয় শাটডাউন, প্রান্তিক আয়ের মানুষ ও করোনা প্রতিরোধ

শাটডাউন, প্রান্তিক আয়ের মানুষ ও করোনা প্রতিরোধ

লকডাউন থেকে শাটডাউন। করোনা সংক্রমণ রোধে নীতিগত সিদ্ধান্তের দূর্বলতা।

করোনা সংক্রমনের সার্কিট ব্রেকার হিসেবে কঠোর শাটডাউন প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সংক্রমনের সার্কিট ব্রেকার হিসেবে আপাতত এর বিকল্প নেই। কিন্তু এই শাটডাউনের খবর শুনে শহরের প্রান্তিক আয়ের মানুষ, শ্রমজীবি ও চাকুরীজীবিদের একটি বড় অংশ গ্রামে চলে গেছে । কেন তারা শহর ছেড়ে গ্রামে গেল? সংক্রমণের উপর এর প্রভাব কি? গ্রামমুখি এ জনশ্রোত শাটডাউনকে একটা বড় প্রশ্নের সম্মুখিন করছে। কেনইবা এই মানুষগুলো গ্রামে ছুটছে?

শহরে যখন আয়রোজগারের অভাব হয় তখন শ্রমজীবি মানুষ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। করোনার কারণে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা হয়েছেন ঋনগ্রস্থ, ধাক্কা খেয়েছেন বাজার ব্যবস্থাপনায়, উদ্যোক্তারা পড়েছেন সংকটে। যার ফলে বাড়ছে বেকারের সংখ্যা।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২০ সালে করা এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস সংকটে বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন বেকার হয়েছে আর বাংলাদেশের প্রতি চারজন যুবকের মধ্যে একজন কর্মহীন বা বেকার রয়েছে (২৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ)।

এখন প্রশ্ন হলো গ্রামমুখি মানুষের এই ঢল ঠেকানো যেতো কিনা? কেন এটা বড় ধরণের সংকট তৈরী করতে পারে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনার প্রকোপ বাড়ছে, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা । সীমান্তবর্তী জেলার যেসব মানুষ ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেছে হয় তারা সংক্রমিত হয়ে বিপদগ্রস্ত হতে পারে বা শাটডাউন শেষে সংক্রমণ নিয়ে ঢাকায় ফিরে আবারও বির্পযয়কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কিন্তু এখানে সংকটটা কোথায়? সরকারের উচিত ছিল তাদেরকে ঢাকায় থাকার জন্য উৎসাহিত করা। ত্রাণ বা সাহায্য প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া ও তা বাস্তবায়ন করা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।

প্রশ্ন হলো এটা সরকারের পক্ষে সম্ভব কিনা? সরকারের সঙ্গতি আছে কিনা আবার আর ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা কতটুকু স্বচ্ছ ও কার্যকর। এখানে সরকারে নীতিগত সিদ্ধান্ত বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারতো। সরকার কি তা করতে পেরেছে? নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে আরও গভীর মনযোগী হয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিলো। কারণ সাংবিধানিক ভাবে সরকার ত্রাণের ব্যবস্থা করার জন্য দায়বদ্ধ। আবার ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাও মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সমূহের মাধ্যমে স্বচ্ছ করা যেতো। এটা করাটা জরুরী ছিলো। তাহলে সংক্রমণ কমতো অনেকাংশে। শাটডাউনের লক্ষ্যও বাস্তবায়িত হতো ভালোভাবে।

আমাদের এই জনবহুল দেশে আদৌ শাটডাউন সম্ভব কিনা? আশংকার বিষয় লকডাউন বা শাটডাউন শেষে গ্রাম থেকে মানুষ যখন কাজের জন্য শহরে ফিরবে তারা যে সংক্রমণ নিয়ে আসবেনা তার গ্যারান্টি কি? ঝুঁকিটা তাই থেকেই গেলো। এতে করে শাটডাউনের কার্যকারিতাও কমবে। ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ যেভাবে দিনদিন বাড়ছে এতে করে এই বিষয়ে আরও গবেষণা, পর্যালোচনা ও বিবেচনা প্রসূত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল।

করোনার এই মহামারিকে প্রতিহত করতে হবে। যেমনটি করেছে প্রতিবেশি ভূটান। এটি যত দীর্ঘায়ূ হবে আমাদের জন্য ঢেকে নিয়ে আসবে আরো সংকট, পরিস্থিতি হবে দূর্বিসহ। এই মহামারি থেকে উত্তরণের  তিনটি কার্যকরি সমাধান রয়েছে। আর সেগুলো হলো ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি যা আপাতত সম্ভব হচ্ছেনা, দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে আপদকালীন কার্যকর ত্রাণ/সাহায্য প্রদান যাতে তারা গ্রাম-শহর যাতায়াত বন্ধ করে, এবং ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা আর সীমান্তবর্তী এলাকা ও এয়ারপোর্ট নিশ্ছিদ্র করা।

এখন সময় বলে দিবে এ শাটডাউন কতটুকু কার্যকর হয়।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর