শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home মতামত সম্পাদকীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু ও শিক্ষার গন্তব্য

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু ও শিক্ষার গন্তব্য

দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্টান বন্ধ থাকার কারণে শিশুরা ঘরবন্দি হয়েছিল। বিশেষ করে ঢাকাসহ বেশ কিছু শহরের শিশুরা মারাত্বক মানসিক চাপের মধ্যে ছিল। কারণ বেশিরভাগ শহরে নেই পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, পার্ক বা বিনোদনের স্থান। সেসব শহরে শিশুদের নিঃশ্বাস ফেলার একমাত্র জায়গা হলো বিদ্যালয়।

এখন স্কুল- কলেজ খুলেছে, সোমবার মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট খুললো, কিছুদিনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খুলবে। এই সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা যে মানসিক চাপের মধ্যে ছিল, এখন সেগুলো খোলার কারণে কিছুটা হলেও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাবে।

করোনাকালীন সময়ে অনলাইনের মা্ধ্যমে ক্লাস চালু থাকলেও। সুবিধাবঞ্চিত অনেক শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের কারণে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এর মধ্যে ঘটে গেছে অনেক হৃদয় বিদারক ঘটনা। মোবাইল কিনে না দেওয়ায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আপন মিয়া (১১) ১৯ জানুয়ারি ২০২০ অভিমান করে আত্মহত্যা করছে।

অ্যাসাইনমেন্টের জন্য মোবাইল না পেয়ে দরিদ্র এক কলেজছাত্রীও আত্মহত্যা করেছে (যুগান্তর, ১৫ আগস্ট ২০২১)।

আশা করা যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখার ক্ষেত্রে সামাজিক দুরত্ব, মাস্ক পরিধান, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা সহ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পাঠদান করা হলে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস খুবই ভয়ংকর। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাযথ অবহিত করার ব্যবস্থা করতে হবে। শংকার বিষয় হলো করোনা ভাইরাস বার বার তার ভ্যারিয়েন্ট পরিবর্তন করছে। ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের মতো ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্ট যে সামনে আসবে না তায় বলা যাচ্ছে না। তাই এই বিষয়ে আমাদের শিশু কিশোর ও ছাত্রছাত্রীদের সর্তক রাখতে হবে। কারণ করোনা ভাইরাসের ক্রমাগত মিউনিটেশন ঘটছে।

অন্যদিকে টিকা কার্যক্রম ব্যাপক আকারে ও সার্বজনীন করে তুলতে হবে। যেহেতু এখন পর্যন্ত শিশুদের টিকাদানের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোন নির্দেশনা নেই তাই তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও আমাদের সকলের।

আমাদের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নতুন যে শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষা পদ্ধতি হাতে নিয়েছেন তা শিক্ষার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে আশা করা যায়।

উন্নত শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও PISA (Programme for International Student Assessment)’র ইন্ডিকেটর ধরে কাজ করতে হবে। এবং PISA র‌্যাংকিং এ অ্যাসেসমেন্ট এ আমাদের অংশগ্রহণ করতে হবে।

PISA এর র‌্যাংকিং এ প্রথম স্থান চীনের দ্বিতীয় স্থান সিঙ্গাপুরের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান ম্যাকাও ও হংকং এর মানে চীনের। পঞ্চম স্থান এস্তোনিয়া ও ষষ্ঠ স্থান কানাডা ও সপ্তম স্তান কানাডার। পিসা র‌্যাংকিং এ স্বাভাবিকভাবেই আমাদের নাম নেই। পিসা র‌্যাংকিং এ আমাদের অংশগ্রহণ জরুরী। এতে করে আমাদের শিক্ষার মান বোঝা যাবে। এই র‌্যাংকিং এ ভাল করতে আমাদের প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে মডেল স্কুল গড়ে তুলতে হবে। এবং বিশেষ করে PISA’র ইন্ডিকেটর (রিডিং, ম্যাথাম্যটিকস্ ও সাইন্স) গুরুত্ব দিয়ে পাঠদান ও কারিকুলাম তৈরি করতে হবে। মডেল স্কুল গুলোতে চায়না, সিঙ্গাপুর থেকে শিক্ষক এনে শিক্ষক প্রশিক্ষণ সহ কারিকুলাম তৈরি করতে হবে।

আর্ন্তজাতিক বিশ্ববিদ্যালয় মানসূচকে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও র‌্যাংকিং-এ নিয়ে আসতে হবে। আর্ন্তজাতিক শিক্ষার মানদন্ড অনুযায়ী পাঠদান চালু করতে হবে। প্রয়োজনে আমরা বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে কারিকুলাম এক্সচেঞ্জ করতে পারি।

দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিকভাবে আমাদের যে সুনাম রয়েছে সে সুনামটি শিক্ষা ক্ষেত্রেও নিয়ে আসা খুব কঠিন নয়। আমাদের ছাত্রছাত্রিদের মেধা আছে। দরকার শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত শিক্ষার আলোকে ঢেলে সাজানো।

মেধাবীরা যাতে শিক্ষকতা পেশায় আসে সেজন্য একটি শিক্ষকতা পেশাকে পেশাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।

আমাদের মনকে ডিকলোনাইজড করতে হবে। যেখানে যা প্রয়োজন সেটার গুরুত্ব উপলব্ধি করে নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

বৈশ্বিক জ্ঞান, উৎকর্ষতা আত্বিকরণ করতে হবে। সবাইকে মনে করতে হবে, এদেশ আমার এদেশের সরকার আমাদের। সবসময় কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ না করে নিজের অবস্থান ও দায়িত্ব পালনে ব্রতি হতে হবে।

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর