শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home DM স্পেশাল ১৫ আগস্ট: বাংলাদেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার ষড়য়ন্ত্র

১৫ আগস্ট: বাংলাদেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার ষড়য়ন্ত্র

শোকে বিহ্বল সারাবিশ্ব

শোকের মাস আগস্ট। আগস্ট এলেই বুকে পাথর চেপে বসে, ভারী হয়ে আসে বাতাস। পতপত করে উড়া বাংলাদেশের পতাকার সবুজ রং যেন আরো গাড় হয়ে আসে, লাল সূর্যটা হয় রক্তরঙ্গিন। গাছগাছালি, নদী আর নগরের সড়কগুলো মাতম করে উঠে। ধানমন্ডি ৩২ নং সড়কের দিকে তাকানো যায়না। সবকিছুই যেন শোকে দুঃখে মুহ্যমান। আমাদের লালিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মশাল রক্তিম হতে হতে রক্তাভ করে দেয় চারদিক, আকাশ-বাতাস।

১৫ আগস্ট শুধুই কী জাতীর পিতা ও তার পরিবারের চিহ্ন মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র ছিলো? এটি কী শুধুই একটি হত্যাকান্ড? এর উত্তর এককথায় না। একটি বড় “না”। তাহলে ১৫ আগস্ট আসলে কী ছিলো? এ প্রশ্নের উত্তর জানার আগে আমাদের একটু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। যদিও এই চেতনা নিয়ে অনেক উপহাস, আলোচনা, সমালোচনা ও অজ্ঞানতার ছড়াছড়ি চারদিকে। তাহলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা আসলে কী? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে মুক্তবুদ্ধির চেতনা, মুক্তচিত্তের চেতনা, গোলামির বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী মানুষের সংগ্রাম। অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর লড়াই, অসুরের বিরুদ্ধে সুরের লড়াই, অবিচারের বিরুদ্ধে বিচারের, মূর্খতার বিরুদ্ধে জ্ঞানের এক নিরবচ্ছিন্ন ও ঐতিহাসিক যুদ্ধ। যে যুদ্ধের শুরু মানব সভ্যতার আঁতুড়ঘরে, যে যুদ্ধের কোন শেষ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো অন্ধকারে আলোর নাচন।

আমরা সেই জাতি যারা মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। আমরা সূর্যসেন, প্রীতিলতা, বিবেকানন্দের উত্তরসূরী। যারা ভারতীয় উপমহাদেশকে উপনিবেশিক গোলামীর শেকল থেকে মুক্ত করতে আন্দোলন করেছে, জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন ফাঁসির মঞ্চে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ হত্যাকান্ড শুধু বাংলাদেশের জন্য ট্র্যাজেডি নয়, সারা বিশ্বের সকল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ট্র্র্যজেডি। মুক্তচিন্তা, মানবমুক্তি ও স্বাধীনতার মশালকে নিভিয়ে দেয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।

ফিদেল কাস্ত্রো ও বঙ্গবন্ধু

আলজেরিয়ায় ১৯৭৩ সালে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ফিদেল কাস্ত্রো- ছবি সংগৃহীত

১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) চতুর্থ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও কিউবা ছিল। সেই সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সাক্ষাৎ হয়।

সে সময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ নট সিন দ্য হিমালয়েজ। বাট আই হ্যাভ সিন শেখ মুজিব। ইন পারসোনালিটি অ্যান্ড ইন কারেজ, দিস ম্যান ইজ দ্য হিমালয়েজ। আই হ্যাভ দাজ হ্যাড দ্য এক্সপিরিয়েন্স অব উইটনেসিং দ্য হিমালয়েজ।’

অর্থাৎ, ‘আমি হিমালয় দেখিনি। তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি হিমালয়ের সমান। এভাবে আমি হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতাই লাভ করলাম।’

ফিদেল কাস্ত্রো ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ৯০ বয়সে হাভানায় মারা যান। (দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট বিডি ও মাই গোল্ডেন বেঙ্গল)।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ফিদেলের মন্তব্য ছাড়াও ফিদেল এখানে আরেকটি বড় কারণে প্রাসঙ্গিক। তাঁর বিরুদ্ধে দেশী বিদেশী সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে ফিদেল ৯০ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন ভালোবাসা আর ক্ষমার এক পরাকাষ্ঠা। তিনি এমন অনেককে ক্ষমা করে পুণর্জীবন দিয়েছেন যাদের মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেয়ার বা বেঁচে থাকার অধিকার ছিলোনা। যারা আমাদের বুদ্ধিজীবি নিধনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিল, যারা আমাদের মাবোনদের ধর্ষণ ও হত্যা করেছিলো। যারা নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে মেরেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা তাই ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমার সংস্কৃতিকে হত্যা।


বঙ্গবন্ধু ছিলেন সারাবিশ্বের মুক্তিকামি মানুষের দর্পণ। আশা ভরসার স্থল।

নতুন প্রজন্ম যদি ১১ জানুয়ারী ১৯৭৫ এ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি উদ্ভোদনের সময় প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষণটিকে যথাযথভাবে উপলদ্ধি করতে পারে তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে ধারন করা তথা বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস তাদের সামনে উন্মোচিত হবে সহজেই।

ভাষণে সেদিন জাতির পিতা বলেন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

“বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর প্রধান, বিএমএ’র কমান্ডার, আমার ক্যাডেট ভাইয়েরা আপনারা সকলেই আমার আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহণ করুন। বহুকাল সংগ্রাম করেছিলাম বাংলাদেশে মিলিটারি একাডেমি হোক, কিন্তু আমরা পারি নাই তখন। আজ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। সেই জন্যই আজ বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি স্থাপিত হয়েছে। আমি স্মরণ করি, সেই সমস্ত শহীদ ভাইদের যারা স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে, আত্মাহুতি দিয়েছে।

আমি স্মরণ করি, বাংলার ত্রিশ লক্ষ লোক রক্ত দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা এনেছে। আজ সত্যিই গর্বে আমার বুক ভরে যায়। এজন্যই বাংলাদেশের মালিক আজ বাংলাদেশের জনসাধারন। সেই জন্যই সম্ভব হয়েছে, আজ আমার নিজের মাটিতে একাডেমি করার। যখন আমি আশা করি, ইন্শাআল্লাহ এমন দিন আসবে, এই একাডেমির নাম শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয় সমস্ত দুনিয়াতে সম্মান অর্জন করবে। তোমাদের মনে রাখা উচিত, ক্যাডেট ভাইরা, আজ তোমরা তোমাদের ট্রেনিং শেষ করলা।

এক পর্যায় শেষ আরেক পর্যায় শুরু। এ পর্যায় দায়িত্ব অনেক বেশী। আজ তোমরা ট্রেনিং সমাপ্ত করে সামরিক বাহিনীর কর্মচারী হতে চলেছ। জাতির উপর তোমার দায়িত্ব, জনগণের উপর তোমার দায়িত্ব, দেশের উপর তোমার দায়িত্ব এবং যে সমস্ত সৈনিকদের তোমরা আদেশ-উপদেশ দিবে, পরিচালনা করবা তাদের উপর দায়িত্ব, তোমার কমান্ডারের উপর তোমার দায়িত্ব, তোমার নিজের উপর তোমার দায়িত্ব; তোমাদের দায়িত্ব জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। তা না হলে জীবনে মানুষ হতে পারবা না।

শৃঙ্খলা ছাড়া কোন জাতি জীবনে বড় হতে পারে নাই। আমি নিশ্চয়ই বিশ্বাস করবো, আজ এই একডেমির আমাদের কিছুই নাই ধরতে গেলে; আমরা সামান্য কিছু দিয়ে শুরু করেছিলাম। অনেক অসুবিধার মধ্যে তোমাদের ট্রেনিং নিতে হয়েছে। সব কিছু তোমাদের আমরা দিতে পারি নাই।

তোমাদের কমান্ডররা অনেক কষ্টের মধ্যে তোমাদের ট্রেনিং দিয়েছে। কিন্তু আজ যা আমি দেখলাম, তাতে আমি বিশ্বাস করতে পারি, যদি পূর্ণ সুযোগ সুবিধা দেওয়া যায়, তো আমার ছেলেদের এই শক্তি আছে যেকোন দেশের যেকোন সৈনিকের সঙ্গে তারা মোকাবেলা করতে পারে। তবে একদিনে কিছুই হয় না। এই তিন বছর হলো স্বাধীনতা পেয়েছি। যতটুকু দরকার চেষ্টার ত্রুটি করা হয় নাই। এমনকি নিজে চেষ্টা করেও জোগাড় করে রিলিফ দেয়ার কাজ আরম্ভ করা হয়েছে।

তোমরা জানো না, তোমরা ছোট ছিলে, স্কুলে পড়তা বা তোমরা বাচ্চা ছিলে, পাকিস্তানীরা দুনিয়াকে বুঝিয়েছিল যে, বাঙ্গালীরা নাকি যুদ্ধ করতে জানে না এবং সেই জন্যই তারা বাঙ্গালীদের সৈন্য বাহিনীতে নিত না। আমার মনে আছে, বহু আগে, আইয়ুব খান স্বয়ং কমান্ডিং এ্যাডজুডেন্ট ছিলেন, তিনি গোপনে সার্কুলার দিয়েছিলেন যে, বাঙ্গালীদের ২% এর বেশী নেওয়া যেন না হয়।

সেই কাগজ যেভাবেই হোক আমি পেয়ে যাই। আর তাই নিয়ে আমি তোলপাড় শুরু করি, যদিও সেই হুকুম তারা উইথড্র করেন, কিন্তু ছলে-বলে-কৌশলে বাঙ্গালীদের দাবিয়ে রেখেছিলেন। বাঙ্গালীরা সামরিক বাহিনীতে যোগদান করতে পারে না, বাঙ্গালীরা কাপুরুষ, বাঙ্গালীরা যুদ্ধ করতে জানে না; পাকিস্তানী সৈন্যরা বাংলার মাটিতে দেখে গেছে যে, কেমন করে বাঙ্গালীরা যুদ্ধ করতে পারে এবং মুক্তিবাহিনীদের ভয় পেয়ে তাদের বড় বড় শক্তিয়ালা, ভুড়ীয়ালাদের জান শেষ হয়ে গিয়েছে।

আমরা বাঙ্গালীরা কাপুরুষ নই। আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসতে পারি, যুগ যুগ ধরে বাঙ্গালীরা পরাধীন ছিল, দুইশ’ বছর ইংরেজদের কাছে আমরা পরাধীন ছিলাম, ২৫ বচ্ছর পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যালঘু দল ছলে-বলে-কৌশলে আমার বাংলার মাটিকে দখল করে শোষণ করেছিল। এই ক্যান্টনমেন্টে বাঙ্গালীদের স্থান ছিল না। যাওয়ার সময় বাঙ্গালীদের রাস্তায় অপমান করা হতো। আমার নিজের জানা আছে, যখন আমি এইখান দিয়ে কোন সময় গাড়ি নিয়ে পাস করেছি, সমস্ত শরীর আমার জ্বলে উঠতো। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, দুশমনদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করতে হবে। অনেক ব্যাথা, অনেক দ্বন্দ্ব, অনেক জুলুম, অনেক মামলার আসামী, অনেক কারাগারে নির্যাতন আমি শুধু নই, হাজার হাজার কর্মী সহ্য করে বাংলার মাটিকে মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম করেছে।

তোমাদের একটা জিনিষ মনে রাখা দরকার, দেশ যখন আমার আছে, মাটি যখন আমার আছে, বাংলার সোনার মানুষ যখন আছে, যদি আমরা সোনার ছেলে পয়দা করতে পারি ইন্শাআল্লাহ আমার যে স্বপ্ন সোনার বাংলা তা একদিন হবে। আমি দেখে না যাওয়ার পারি কিন্তু ইন্শাআল্লাহ হবে। আজ ইন্শাআল্লাহ বাংলার সম্পদ আর কেউ লুট করে নিবার পারবে না। বাংলার মাটিতে বাংলার সম্পদ থাকবে। বাংলার মানুষ ভোগ করবে। যে জাতির ত্রিশ লক্ষ লোক রক্ত দিতে পারে স্বাধীনতার জন্য সেই জাতি দরকার হলে কোটি লোকের জীবন দেবে বাংলার স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য।

ছেলেরা আমার, তোমরা নতুন জীবনে যাচ্ছো, মনে রেখ, তোমরা এক একজন সামরিক কর্মচারী, যাদের নিচে থাকবে সৈনিক বাহিনী, তাদের কাছেও অনেক শেখার আছে, তাদের সঙ্গে মিশতে হবে, তাদের জানতে হবে, সুখের সময়-দুখের সময় দাঁড়াতে হবে, তদের পাশে থাকতে হবে। মনে রেখ, ‘শাসন করা তারেই সাজে সোহাগ করে যে।’ তুমি যখন শাসন করবা সোহাগ করতে শেখ।

তাদের দুঃখের দিনে পাশে দাঁড়িও। তাদের ভালোবেসো। কারন তোমার হুকুমে সে জীবন দেবে। তোমাকে শ্রদ্ধা অর্জন করতে হবে। সেই শ্রদ্ধা অর্জন করতে হলে তোমাকে শৃঙ্খলা শিখতে হবে। নিজকে সৎ হতে হবে। নিজের দেশকে ভালোবাসতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং চরিত্রও ঠিক রাখতে হবে। তা না হলে কোন ভালো কাজ করা যায় না।

মনে রেখ, আজ তোমরা আমার প্রথম ক্যাডেট বাংলাদেশের মিলিটারি একাডেমির, তোমাদের দেখবে ভবিষ্যৎ ছেলেরা যারা আসবে। তোমাদের কাছে তারা শিখবে। আমার মুখ কালা কোরো না। দেশের মুখ কালা কোরো না। সাড়ে চার কোটি মানুষের মুখ কালা কোরো না। তোমরা আদর্শবান হও। সৎ পথে থেকো। মনে রেখ, ‘মুখে হাসি, বুকে বল, তেজে ভরা মন, মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন।’ মাঝে মাঝে আমরা অমানুষ হয়ে যাই।

এতো রক্ত দেয়ার পরে যে স্বাধীনতা এনেছি, চরিত্রের পরিবর্তন অনেকের হয় নাই। এখনো ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, চোরাকারবারি, মুনাফাখোররা বাংলার দুখী মানুষের জীবনকে অতিষ্ট করে তুলেছে। দীর্ঘ তিন বছর পর্যন্ত এদের আমি অনুরোধ করেছি, আবেদন করেছি, হুমকি দিয়েছি, ‘চোরা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনী।’

কিন্তু আর না, বাংলার মানুষের জন্য জীবনের যৌবন আমি কারাগারে কাটিয়ে দিয়েছি। এ মানুষের দুঃখ দেখলে আমি পাগল হয়ে যাই। কাল যখন আমি আসতেছিলাম ঢাকা থেকে এতো দুঃখের মধ্যে না খেয়ে কষ্ট পেয়েছে, গায়ে কাপড় নাই, কত অসুবিধার মধ্যে বাস করতেছে, হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ লোক দু’পাশে দাঁড়িয়ে আছে আমাকে দেখবার জন্য।

আমি মাঝে মাঝে প্রশ্ন করি, তোমরা আমাকে এতো ভালোবাস কেন? কিন্তু সেই দুঃখী মানুষ দিন ভরে পরিশ্রম করে, তাদের গায়ে কাপড় নাই, যার পেটে খাবার নাই, তাদের বাসস্থানের বন্দোবস্ত নাই, লক্ষ লক্ষ বেকার, পাকিস্তানীরা সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে, কাগজ ছাড়া আমার জন্য কিছু রেখে যাই নাই, বিদেশ থিকা ভিক্ষা কইরা আমাকে আনতে হয়, আর এই চোরের দল আমার দুঃখী মানুষের সর্বনাশ করে বা লুটতরাজ করে খায়।

আমি শুধু এমার্জেন্সি দেই নাই এবার আমি প্রতিজ্ঞা করেছি যদি ২৫ বছর এই পাকিস্তানী জালেমদের মধ্যে জিন্নাহ থেকে আরম্ভ করে গোলাম মোহাম্মদ, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খানের মধ্যে বুকের উপর টান করে সংগ্রাম করে থাকতে পারি আর আমার ত্রিশ লক্ষ লোকের জীবন দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারি তাহলে পারবো না!

নিশ্চয়ই, ইন্শাআল্লাহ পারবো এই বাংলার মাটি থেকে দুর্নীতিবাজ, এই ঘুষখোর, এই মুনাফাখোরী, এই চোরাচালানদের নির্মূল করতে হবে।

আমিও প্রতিজ্ঞা নিয়েছি, তোমরাও প্রতিজ্ঞা নাও বাংলার জনগণও প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করুক। আর না, অসহ্য, সীমা হারিয়ে ফেলেছি। এই জন্য জীবনের যৌবন নষ্ট করি নাই। এই জন্য শহীদরা রক্ত দিয়ে যায় নাই। কয়েকটা চোরা কারবারী, মুনাফাখোরী, ঘুষখোর দেশের সম্পদ বাইরে বাইর করে দিয়ে আসে। জিনিষের দাম, গুদাম করে মানুষকে না খাওয়ে মারে। উৎখাত করতে হবে বাংলার বুকে থেকে এদের।

দেখি কতদিন তারা টিকতে পারে। চোরের শক্তি বেশী না ঈমানদারের শক্তি বেশী সেই প্রমাণ হয়ে যাবে।
অন্যায়ের কাছে কোনদিন মাথা নত করি নাই। বারবার পাকিস্তানী আমাকে ফাঁসি দিতে চেয়েছে, বারবার বুক টান করে আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি; কারন আল্লাহ আমার সহায় ছিল, বাংলার জনগণের আমার দোয়া ছিল, এখনো সেই দোয়া আছে। ইন্শাআল্লাহ তোমাদের সাহায্য, তোমাদের সহানুভূতি, তোমাদের কাজ, দেশের জনগণের ভালোবাসা, আর ঈমানদার মানুষের সহযোগিতায় এই দুষ্কৃতিকারীদের নিমূর্ল করতে হবে।

আর একদল আছে যারা বিদেশীর অর্থে বাংলার স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে চায়। রাতের অন্ধকারে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে, যারা বিদেশী আদর্শ বাংলার মাটিতে চালু করতে চায়, তাদের বাংলার মাটিতে স্থান হবে না। মনে রেখো তোমরা, তাদের সেই বাংলার মাটিতে শেষ করতে হবে। কেমন করে একটা লোক নিজের দেশের মাতৃভূমিকে বিক্রি করতে পারে পয়সার লোভে ভাবলে আমি শিহরিয়া উঠি।

তোমরা মনে রেখো আমার ছেলেরা, জীবনে তোমরা যে কাজে নেমেছ, উপরে যারা তোমার হুকুম দেবে তোমরা ওয়াদা করলা এখনই তাদের হুমুক মানতে হবে। তুমি যদি তাদের হুকুম না মানো নিচে যারা তোমার আছে তারা তোমার হুকুম মানবে না। সেই জন্যই তোমাকে হুকুম মানতে হবে।

আমি তোমাদের প্রধানমন্ত্রী, আসতে পারে অনেক, প্রধানমন্ত্রী যেতে পারে অনেক, আমি তোমাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কথা বলছি না, আমি তোমাদের জাতির পিতা হিসেবে আদেশ দিচ্ছি, কারন জাতির পিতাই একবারই হয় দু’বার হয় না। প্রধানমন্ত্রী অনেক হবে, অনেক আসবে, প্রেসিডেন্ট অনেক হবে, অনেক আসবে, কিন্তু সেই হিসেবে তোমাদের আমি ভালোবাসি তোমরা জান। তোমরা সৎ পথে থেকো। মাতৃভূমিকে ভালোবেসো।

মনে রেখো, তোমাদের মধ্যে যেন পাকিস্তানী মেনটালিটি না আসে। তোমরা পাকিস্তানের সৈনিক নও। তোমরা বাংলাদেশের সৈনিক। তোমরা হবা আমার পিপলস আর্মি। তোমরা পেশাদার বাহিনী নয়। তোমরা শুধু সামরিক বাহিনী নও। তোমাদের দরকার হলে নিজে উৎপাদন করে খেয়ে তোমাদের বাঁচতে হবে। এটা হবে আমার জনগণের বাহিনী। এটা হবে পিপলস আর্মি। এটা পাকিস্তানের পেশাদারি আর্মি হবে না। এদিকে তোমাদের খেয়াল রাখা দরকার। আর যেখানে অন্যায়, অবিচার দেখবা চরম আঘাত করবা। ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবা। গুরুজনকে মেনো। সৎ পথে থেকো। শৃঙ্খলা রেখো। তাহলে জীবনে মানুষ হতে পারবা। এটা তোমাদের ভুললে চলবে না।

ইন্শাআল্লাহ আমি গর্বিত। আমি যেমন আমার সামরিক বাহিনীকে স্মাগলিং বন্ধ করার হুকুম দিলাম। আমি নিশ্চয়ই আজ গর্ব করে বলতে পারি ২৫ বছরে স্মাগলিং বন্ধ করতে পারে নাই কিন্তু ইন্শাআল্লাহ এবার শতকরা ৯৫ ভাগ স্মাগলিং আমার সামরিক বাহিনী বন্ধ করতে পেরেছে বিডিআরের সাহায্য নিয়ে। তাদের জনগণের সহযোগিতার প্রয়োজন।

মনে রেখো, জনগণ কারা? তোমার বাপ, তোমার ভাই। তোমাদের যে মায়না আসে, কোত্থেকে আসে? সরকারী-বেসরকারী কর্মচারী, যারা এখানে আছেন, তাদের সকলের বেতন আসে বাংলার দুঃখী মানুষের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে। তোমরা তাদের মালিক নও। তোমরা তাদের সেবক। তাদের অর্থে তোমাদের সংসার চলবে। তাদের শ্রদ্ধা করতে শিখো। তাদের ভালোবাসতে শিখো। নিশ্চয়ই যেখানে অন্যায় হবে সেখানে দমন করবা। কিন্তু নিরাপরাধ লোকের উপর যেন অন্যায় না হয় সেদিকে খেয়াল রেখো।

তোমাদের জন্য আমার শুভেচ্ছা রইল। আজ তোমরা বুঝতে পারবা কিনা আমি জানি না; কিন্তু আমার মনে যে কি আনন্দ তোমাদের আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। কিন্তু আমি কোন দিন ভাবি নাই, যখন আমি আগরতলায় বন্দি ছিলাম, যখন পাকিস্তানে মেওয়ালী বন্দি ছিলাম, আমি ভাবি নাই যে, তোমাদের এভাবে প্যারেড হবে, আমার বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি হবে এবং তা আমি দেখে যাবো।

এ জানতাম যে হবে, ইন্শাআল্লাহ হবে, এ বিশ্বাস আমার ছিল, কিন্তু দেখে যাবো এ আমি ভাবি নাই। কিন্তু আল্লাহ আমাকে দেখালেন। আরো দেখতে চাই। সে কি জানো? সোনার বাংলা দেখতে চাই। আরো দেখতে চাই। কি জানো? দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। আরো দেখতে চাই। এ দেশের দুঃখী মানুষ পেট ভরে ভাত খাক, গায়ে কাপড় পোড়–ক, অত্যাচার-অবিচার, জুলুম বন্ধ হয়ে যাক।

এইটা আমি দেখতে চাই। এই জন্য সকলের কাছে আমার আবেদন, আজ তোমাদের প্লাট ফরম থেকে সামরিক বাহিনী, বেসামরিক বাহিনী, জনগণ সকলকে আবেদন করবো, সংঘ বদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করো আর দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করো। কাজ করবো না, পয়সা দাও, ফ্যাক্টরীতে কাজ করতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে। কলে কারখানায় কাম করতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে। লাফালে চলবে না। লাফানো আর আমি এ্যালাউ করবো না। তিন বছর করেছি আর নয়, কারন দেশের সম্পদ বাড়ানো না হলে দেশের মানুষ বাঁচতে পারে না।

তাই আজকে এই একাডেমি, তোমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে আমি জানি। অনেক দুঃখের মধ্যে তোমাদের শিখতে হয়েছে, তোমাদের কমান্ডারদের বহু কষ্ট করে তোমাদের শেখাতে হয়েছে। অনেক অসুবিধা তোমাদের আছে। একদিনে হয় না।

যারা তোমার পুরানা এখানে সামরিক বাহিনীর লোকেরা আছে, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা কোরো যে, ’৪৭ সালে বাংলাদেশে কি ছিল? সেই যুগে আমার টাকা দিয়ে পাকিস্তানীদের একাডেমি করেছিল তার বা অবস্থা দশ বছর পর্যন্ত কি ছিল? আমি নিশ্চয়ই আনন্দিত যে, তিন বছরের মধ্যে কিছু বন্দোবস্ত আমি আমার সামরিক বাহিনীর জন্য করতে পেরেছি, সকলের জন্য করতে পেরেছি।

অনেক দিন লাগে, একটা একাডেমি একদিনে গড়ে তোলে না। অনেক প্রয়োজন, ইন্শাআল্লাহ হবে, ভালো ভাবে হবে। এমন হবে যে, দুনিয়ার মানুষ দেখতে আসবে আমার একাডেমিকে এই বিশ্বাস আমি রাখি।

তোমরা, তোমাদের কাছে আমার শুভেচ্ছা রইল। আমার আদেশ তোমরা মনে রেখ। আমার স্নেহের আবেদন তোমরা মনে রেখ। আমি তোমাদের দোয়া করবো। বাংলার জনগণ তোমাদের দোয়া করবে। তোমরা আমার ফাস্ট ব্যাচ। তোমরা কাল থেকে সরকারী অফিসার হয়ে যাবা। তোমরা আদর্শ সৃষ্টি কোরো যাতে তোমাদের যারা ফলো করে আসবে তারাও যেন আদর্শবান হয়। তোমাদের উপর আমার এই বিশ্বাস আছে। আমি তোমাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আমার চিফ অব স্টাফদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আমি কমান্ডাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা ইন্সট্রাক্টর ছিল তাদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি আর যারা সহযোগিতা করেছিল তাদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এবং ধন্যবাদ জানিয়ে তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ! স্বাধীন দেশে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি এই স্বাধীনতা নিশ্চয়ই ইন্শাআল্লাহ থাকবে। কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। তবে স্বাধীনতা বৃথা হয়ে যাবে যে বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পার। সেই জন্য তোমাদের কাছে আমার আবেদন রইল সৎ পথে থেকো, খোদা নিশ্চয়ই তোমাদের সাহায্য করবে। বিদায় নিচ্ছি। খোদা হাফেজ। জয় বাংলা। ধন্যবাদ।” সূত্র ভাষণের অডিও টেপ রেকর্ড।

১৫ আগস্ট বাংলার কারবালা

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নীল নকশার মাধ্যমে বাংলাদেশকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে এমনকি শিশু রাসেলকেও। এই হত্যাকান্ডের রয়েছে নানাদিক ও মেরুকরণ।

প্রথমত: খুনীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঘোর অন্ধকারে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। চেয়েছিল ৭১ পূর্ববর্তি অবস্থানে নিয়ে বাংলাদেশকে আবার পরাধীনতার শেকলে শৃঙ্খলিত করতে। যেটি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় থেকেই মোশতাক চেয়েছিলো

দ্বিতীয়ত: খুনীরা চেয়েছিলো স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তিকে সমূলে বিনাশ করতে। স্বাধীনতার চেতনার মূল উৎপাটন করতে। তাই তারা ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে যারা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিকে নেতৃত্ব দিতে পারে।

তৃতীয়ত: শিশু রাসেলকে হত্যার মাধ্যমে খুনীরা এটা প্রমাণ করেছে যে তারা মানবতার শত্রু। ৭১ এর প্রেতাত্বা। তাদের অপরাধের ধরণ ও অপরাধ সংঘঠনের প্রক্রিয়া একই। যা ১৯৪৮ সালের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার সুস্পষ্ঠ লঙ্ঘণ।

চতুর্থত: বাঙ্গালীকে ঐতিয্য ভাষা, রাজনীতি, সংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে শেষ করে দেয়া। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙ্গালী যখন আন্দোলন করে তখন তারা গুলি চালায় আমাদের বুকে। স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিলো একটি জনগোষ্ঠিকে। তারপর ৭১ এ আমাদের বুদ্ধিজীবিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হত্যা করা হয়। এর মানে তারা জানতো কোথায় আমাদের বুদ্ধিজীবিরা থাকে। তাদের পরিকল্পণা ছিলো খুবই সংহত-নিপুন। তারা দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলো আমাদেরকে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, নেতৃত্ব ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ধ্বংস করতে। এই পরিকল্পণার অংশ হিসেবে তারা ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর এর হত্যাকান্ড চালায়। তারপর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়। সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করা হয় তিন শতাধিক মানুষকে। কারণ তারা শেখ হাসিনাে ও শেখ রেহানাকে ১৫ আগস্টে হত্যা করতে ব্যর্থ হয় তাঁরা বিদেশে থাকার কারণে।

এখনো ১৫ আগস্টের শকুনেরা নানাভাবে খামছে ধরে রেখেছে বাংলার মানচিত্র।

১৫ আগস্ট না ঘটলে আমরা আজ এক ভিন্ন বাংলাদেশ পেতাম। বাঙ্গালীকে জ্ঞান শূন্য করার যে প্রচেষ্টা সূচিত হয়েছিল ৫২ সালে তা ৭১ হয়ে ৭৫ এ এক বড় ট্র্যাজেডিতে পর্যবসিত হয় আর ২০০৪ এর ২১ আগস্ট এ সর্বশেষ ছোবল মারে।

আমাদের আজ নতুন করে সবকিছু নিয়ে ভাবতে হবে।

শত্রুরা কখনই একটি স্থিতিশীল, উন্নত বাংলাদেশ চায়নি। ন্যায়, সাম্য, উদার, উন্নত, মানবিক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রকাশই হচ্ছে ১৫ আগস্ট।

আমরা জাতি হিসেবে কলঙ্কিত কারণ আমরা জাতির পিতাকে হত্যা করেছি। আমাদের পিতৃহত্যার দায় মোচনের সময় এসেছে। সময় এসেছে শিশু রাসেলের হত্যার দায় মোচনের।

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যুদ্ধের মাধ্যমে যা স্বাধীনতা এসেছে। যেদিন আমরা ১৫ আগস্টের যর্থাথ মূল্যায়ন করতে পারবো সেদিন হয়ত কিছুটা হলেও এই অভিশাপের দায় মুক্ত হতে পারব।

আমাদের সেই অভিশাপ মোচনের সময় এসেছে এখন। জাতির পিতার এই আত্মত্যাগ, এই নির্মম হত্যাকান্ডের দায় মোচন সেদিনই হবে, যেদিন দেশের প্রতিটি মানুষ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ন্যায়, সাম্য ও জ্ঞানভিত্তিক একটি উদার-উন্নত সমাজ ও দেশ গঠন করতে ব্রতি হবো।

1 টি মন্তব্য

  1. ‘আই হ্যাভ নট সিন দ্য হিমালয়েজ। বাট আই হ্যাভ সিন শেখ মুজিব। ইন পারসোনালিটি অ্যান্ড ইন কারেজ, দিস ম্যান ইজ দ্য হিমালয়েজ। আই হ্যাভ দাজ হ্যাড দ্য এক্সপিরিয়েন্স অব উইটনেসিং দ্য হিমালয়েজ।’

    এ যেন এক মহাসমুদ্র ভালবাসা!

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর