শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

Close

Home মতামত সিটিজেন জার্নালিজম স্বপ্নের অর্গানিক ফার্ম: বেকার যুবকদের জন্য কী শিক্ষনীয়

স্বপ্নের অর্গানিক ফার্ম: বেকার যুবকদের জন্য কী শিক্ষনীয়

খুলনা শহর হয়ে মংলা বন্দর মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভরসাপুর বাজার। সেখান থেকে মংলার দিকে কিছুদূর এগোলেই রাস্তার বাম দিকে মাঠের মধ্যে চোখে পড়বে ফিউচার অর্গানিক ফার্মের একটি সাইনবোর্ড। ফার্মে প্রবেশ করলেই পাখপাখালির গানে এবং নির্মল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। মনে হবে যেন এটি একটি পার্ক।

সৈয়দ আবদুল মতিন শেষ বয়সে একজন কৃষক ও গবেষক হিসাবে কাজ করবে এটা তাঁর আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশি কোনোদিন কল্পনাও করেনি।

অধিকাংশ মানুষ সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর জীবন কাটায় ঘরে বসে। কিন্তু খুলনার অবসরপ্রাপ্ত উপ-কৃষি কর্মকর্তার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে। চাকুরী জীবনের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তিনি তৈরি করেছেন তার স্বপ্নের ফিউচার অর্গানিক ফার্ম।

সৈয়দ আবদুল মতিনের স্বপ্নের ফিউচার অর্গানিক ফার্ম

৭ বিঘার জমির এ অর্গানিক ফার্মে ৩ জাতের ধান, ১৪ রকমের সবজি, ৬ জাতের ফল ও ৪ জাতের শাকের চাষসহ বিভিন্ন গাছে ভরপুর। পাশাপাশি দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের চাষও করছেন।

ফার্মের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবী সৈয়দ আবদুল মতিন কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করেন না। পোকামাকড় দমন করেন মেহগনির বীজ থেকে তৈরি তেল দিয়ে। সার হিসেবেও ব্যবহার করেন মেহগনির বীজের গুঁড়া । আর মেহগনির পাতার নির্যাস থেকে তৈরি করেছেন একধরনের পানীয়।

খুলনা শহরের তাঁর নিজস্ব ছোট্ট বাসা থেকে প্রতিদিন বাস যোগে এ অর্গানিক ফার্মে আসেন। সারা দিন কাজ করে সন্ধ্যায় ফিরে যান বাসায়। বৃদ্ধ বয়সেও নেই কোন ক্লান্তি। সবসময় আনন্দ অনুভব করেন। অথচ তাঁর রয়েছে ডায়াবেটিস।

সৈয়দ আবদুল মতিনের স্বপ্নের ফিউচার অর্গানিক ফার্ম

সৈয়দ আবদুল মতিনের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও ছেলে বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কর্মরত।

তিনি প্রতিদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর অরগানিক ফার্মে প্রায় ১০ জন লোক কাজ করেন। তিনি অবসর গ্রহণের পর কৃষি কাজে ঝুঁকে পড়েছেন।

ইচ্ছে করলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ সাবেক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা চাকরি দুই বছর এক্সটেনশন করাতে পারতেন। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী উভয়েই অবসর গ্রহণ করেন। মানুষকে বিষ মুক্ত সবজি ও ফল খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে এ ফার্ম তৈরি করেছেন।

প্রথমে অবসরের এককালীন টাকা দিয়ে ৩ বিঘা জমি কিনে ফার্মের কাজ শুরু করেন ২০০৪ সালে। পরে ৪ বিঘা জমি কিনতে সহযোগিতা করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মেয়ে।

সৈয়দ আবদুল মতিনের স্বপ্নের ফিউচার অর্গানিক ফার্ম

জনাব মতিন জানান, এ ফার্মে পাওয়া যাবে দেশি ফলের হারিয়ে যাওয়া গাছ। পুকুরে থাকবে দেশি মাছ। তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য ছোট ঘর নির্মাণ করা হবে।

মেহগনির ফল থেকে তৈরি তেল রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত সংস্থা মেধাস্বত্ব, নকশা ও ট্রেডমার্ক বিভাগ থেকে পেয়েছেন মেধাস্বত্ব।

ভেষজ পানীয় ও জৈব সারের স্বীকৃতি পেয়েছেন ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের আর জৈব বালাইনাশকের মেধাস্বত্বের প্রাথমিক স্বীকৃতি মিলেছে। এতে তিনি খুবই আনন্দিত। নিজেকে গর্বিত মনে করেন।

অবসর জীবনেও যে উদ্যোক্তা হওয়া যায় তাও আবার সমাজের কল্যাণে বৃহত্তর স্বার্থে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সৈয়দ আব্দুল মতিন। লাখো কর্মহীন যুবকের জন্য যা হতে পারে প্রেরণার উৎস।

লেখক: আজমাল হোসেন মামুন
সহকারী শিক্ষক, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দ্য ডেলটা মেইল এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। মত প্রকাশের স্বাধীনতার সার্বজনীন নীতির উপর ভিত্তি করে এ লেখা প্রকাশিত হয়েছে তবে লেখকের মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার দ্য ডেলটা মেইল নিবে না।)

আপনার মন্তব্য দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

- Advertisment -
  • সর্বশেষ
  • আলোচিত

সাম্প্রতিক মন্তব্য

স্বঘোষিত মহাপুরুষ on লকডাউন বাড়লো আরও একসপ্তাহ
জান্নাতুল ফেরদৌস on চিরবিদায় কিংবদন্তি কবরীর